কোবি ব্র্যায়ান্টের জন্য শোকগাথা

মাত্র ৪১টি বসন্ত পার করিয়াছেন তিনি। কিন্তু নিজের শখের উড়ালযানে করিয়া তিনি উড়াল দিলেন মহাকালের দিকে। চিরতরে হারাইয়া গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় কোবি ব্রায়ান্ট। পাইলটসহ হেলিকপ্টারের দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হইলেন ৯ জন। দুঃখজনকভাবে কোবির সঙ্গে ছিল তাহার ১৩ বছর বয়সি আদরের কন্যা। যে কোনো মৃত্যুই বেদনার, তবে সর্বকালের অন্যতম সেরা কোনো খেলোয়াড়ের অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনার। রবিবার গভীর রাতে যখন কোবি তার শখের এস-৭৬ হেলিকপ্টারে করিয়া মেয়েকে সঙ্গে লইয়া একটি বাস্কেটবল ম্যাচ দেখিতে যাইতেছিলেন, তখন ঘুণাক্ষরেও বুঝিতে পারেন নাই ‘এক সেকেন্ডের নাই ভরসা’। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাহার প্রিয় কপ্টারটি যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের পশ্চিমে কালাবাসাস শহরের নিকট পাথুরে জমিতে আছড়াইয়া পড়ে, তখন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরিয়া যায় কপ্টারটিতে। দুর্ঘটনাস্থলে খুব দ্রুতই জড়ো হন কয়েক শত মানুষ। কী আশ্চর্য! তাহাদের অনেকেই কোবির জার্সি পরিধান করিয়া ছিলেন। কোবির ৮ ও ২৪ নম্বর জার্সিটি অনেকের নিকটই ছিল ২৪ ঘণ্টার ভালোবাসার মতো। স্বাভাবিকভাবেই কোবির এই অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নামিয়া আসিয়াছে বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে।

সর্বকালের অন্যতম সেরা বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার কোবির জন্ম ১৯৭৮ সালের ২৩ জানুয়ারি। পেনিসিলভানিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরে বাস্কেটবল খেলোয়াড় জো ব্রায়ান্টের ঘর আলো করিয়া জন্ম লইয়াছিলেন কিংবদন্তি কোবি বিন ব্রায়ান্ট। ১৯৯৬ সালে শারলট হরনেটের হাত ধরিয়া কোবি আসেন পেশাদার বাস্কেটবল জগতে। ২০ বত্সরের খেলোয়াড়ি জীবনে ১৮ বার জায়গা করিয়া লইয়াছিলেন অলস্টার টিমে। আর ১২ বার ছিলেন অল ডিফেন্সিভে। লেকার্সের হইয়া জিতিয়াছিলেন পাঁচটি এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ, যাহার মধ্যে ২০০৯ এবং ২০১০ সালের ফাইনালে টানা দুইবার তিনি হইয়াছিলেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার। এইখানেই থামিয়া থাকে নাই কোবির রাজত্ব। ২০০২, ০৭, ০৯ এবং ১১ সালে তিনি অলস্টার গেম এমভিপি মনোনীত হন। ইহা ছাড়া ২০০৬ এবং ২০০৭ সালেও টানা দুইবার এনবিএ-এর সেরা স্কোরদাতা হইয়াছিলেন কোবি ব্রায়ান্ট। ক্লাব ছাড়িয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের হইয়াও তিনি ছিলেন একইরকম অপ্রতিরোধ্য। ২০০৮ বেইজিং এবং ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণপদক ছিনাইয়া নেন এই বাস্কেটবল তারকা। জিতিয়াছেন ফিবা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নশিপের গোল্ড মেডেলও।

২০১৬ সালে পেশাদার বাস্কেটবল হইলে বিদায় লইবার পর তাহার সম্মানে তাহার ৮ ও ২৪ নম্বর জার্সি দুইটিকে প্রত্যাহার করিয়া নেয় এলএ লেকার্স। ইতিহাসে তাহার পূর্বে এমন সম্মান পান নাই আর কোনো বাস্কেটবল খেলোয়াড়! নিজের বাস্কেটবল ক্যারিয়ার লইয়া কোবি ব্র্যায়ান্ট লিখিয়াছেন অসাধারণ একটি কবিতা। অত্যাশ্চর্য ব্যাপার হইল, কোবির ঐ কবিতা অবলম্বনে বানানো হয় স্বল্পদৈর্ঘ্যের অ্যানিমেশন সিনেমা ‘ডিয়ার বাস্কেটবল’—যাহা ২০১৮ সালে অস্কার পুরস্কার লাভ করে।

এমন লিজেন্ডের কখনো মৃত্যু হয় না। কোবি ব্র্যায়ান্ট বাঁচিয়া থাকিবেন কোটি মানুষের হূদয়ে।