স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্যারিয়ারটা দাঁড়িয়ে ছিল খাদের কিনারায়। ফিটনেস নিয়ে সমস্যা, কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের সাথে বনিবনা না হওয়া সব মিলিয়ে আকাশ সমান চাপের মুখে ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। সেই চাপ ঝেরে ফেলতে বড় কিছু করার বিকল্প ছিল না তার। তবে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সেই চাপ অনেকটাই কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি।
এমন ইনিংসের কৃতীত্বটা তিনি দিলেন স্বয়ং কুমার সাঙ্গাকারাকে। জানালেন, সাঙ্গাকারার টিপসই তাকে বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টের আগে সাঙ্গাকারার সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি আমি। আমাকে অনেক টিপস দিয়েছেন সাঙ্গা। যা আমাকে বড় ইনিংস খেলতে সহায়তা করেছে।’
নিজের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য সাঙ্গাকারাকে ধন্যবাদ দেন ম্যাথুস। তিনি বলেন, ‘এই টেস্টের আগে সাঙ্গাকারার সাথে আমি কথা বলি। কারণ এই ওয়েলিংটনে আমাদের শেষ ম্যাচে ডাবল-সেঞ্চুরি করেছিলেন সাঙ্গা। আমি শুধুমাত্র তার কাছ টিপস নিতেই সাঙ্গার সাথে কথা বলি। আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এখানে কিভাবে ভালো খেলেছিল সে এবং বড় ইনিংস খেলা উপায় কি? সাঙ্গা ভিন্ন ভিন্ন বোলার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা দেয় এবং শট সিলেকশন সম্পর্কে আমাকে বিস্তর ধারণা দেয়। এছাড়া কোনো বোলারকে কিভাবে সামলাতে হবে, সেটিও সে বলে দেয়। তার টিপসের সাথে আমার অভিজ্ঞতার মিশলে মাঠে নিজের সেরাটা দিতে পারি আমি। সাঙ্গার টিপস আমার অনেক বেশি কাজে লেগেছে।’
তরুণ ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসের সাথে তিন সেশনেরও বেশি সময় ক্রিজে কাটিয়েছে ম্যাথুজ। মেন্ডিসের সাথে তার বোঝাপড়াটা ভালো ছিল বলে জানান ম্যাথুস, ‘আমরা ক্রিজে অনেক বেশি কথা বলেছি। নিজেদের উইকেটে টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেছিলাম। মেন্ডিস নিজের সেরাটা দিয়েছে। ঐ পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করা সত্যিই কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা তিন সেশন ব্যাট করেছি। যা দলের জন্য সহায়ক হয়েছে। তার সাথে আমার ভালো জমেছিল। তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে মেন্ডিসের এমন পারফরমেন্স মুগ্ধ করেছে আমাকে।’
নিউজিল্যান্ড বোলাররা শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানদের বুক টার্গেট করে বল করছিল বলে জানান ম্যাথুজ। তারপরও কিউই বোলারদের ডেলিভারিগুলো ঠাণ্ডা মাথায় সামাল দিতে চেয়েছেন মেন্ডিস ও ম্যাথুজ। ম্যাথুজ বলেন, ‘তারা আমাদের বুক টার্গেট করে বল করে গিয়েছে। মেন্ডিসের সাথে কথা বলে ঠিক করেছি, বাউন্সের বলগুলোতে আমরা আগ্রাসী হবো না এবং খুব বেশি পুশ করার চেষ্টা করবো না। আমরা ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে পেরেছি বলেই তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি।’
জানিয়ে রাখা ভালো, আগামী ২৬ ডিসেম্বর বক্সিং ডে-তে থেকে ক্রাইস্টচার্চে শুরু হবে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এর আগে প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছে।