আবারও রুদ্ধশ্বাস জয় ফেদেরারের

সেমিতে প্রতিপক্ষ জকোভিচ

স্পোর্টস ডেস্ক

আসছে আগস্টেই ৩৮-এ পা রাখবেন রজার ফেদেরার। তার পরও এই বয়সে এসে যেভাবে টানা চার-পাঁচ ঘণ্টা দীর্ঘ, রুদ্ধশ্বাস সব ম্যাচ খেলে চলেছেন, তাতে বয়স নিয়ে যে কেউই সন্দেহ করে বসতে পারে। সর্বশেষ ম্যাচে আমেরিকান টেনিস স্যান্ডগ্রেনের বিপক্ষে পাঁচ সেটের মহাকাব্যে জিতেছেন, এর আগে তাকে বাঁচাতে হয়েছে সাত-সাতটি ম্যাচ পয়েন্ট! তাতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে শেষ চার। তাতে প্রতিপক্ষ নোভাক জকোভিচ।

শেষ ষোলর ম্যাচে জিতে ‘টেনিস’-এর মুখোমুখি হওয়ার কথাটা জানায় প্রতিপক্ষের নাম নিয়ে হালকা রসিকতা করেছিলেন ফেদেরার। বলেছিলেন, ‘সে যে বাস্কেটবল খেলে না, তা একরকম নিশ্চিত আমি।’ সে ঠাট্টার পর গতকাল মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনালের শুরুর সেটে যখন জিতলেন ৬-৩ ব্যবধানে, সরাসরি সেটে জয়টাকেই মনে হচ্ছিল ফেদেরারের নিয়তি।

পরের দুটি সেট নিষ্পত্তি হলো ৬-২ ব্যবধানে। তবে বিজেতার নাম ফেদেরার নয়, জিতলেন টেনিস। চতুর্থ সেটে সমানে সমানে লড়লেও জেতার সুযোগটা প্রথম এসেছিল টেনিস স্যান্ডগ্রেনের সামনেই। র্যাংকিংয়ের ১০০তম খেলোয়াড় এবং অবাছাই টেনিসের চোখেমুখে তখন ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে নিচু অবস্থানে থাকা খেলোয়াড় হিসেবে অজি ওপেনের শেষ চার নিশ্চিত করার জোর স্বপ্ন।

ম্যাচের মূল নাটকীয়তা শুরু তখনই। ৪-৪ সমতা থেকে চোখের পলকেই টেনিস এগিয়ে গেলেন ৫-৪ ব্যবধানে। আর একটা সেট জিতলেই বাজত ফেদেরারের বিদায়ঘণ্টা। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরই যেন সেরাটা নিংড়ে দিলেন ফেডেক্স। দারুণ অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার মিশেলে ঠেকালেন তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট। সেটটা নিয়ে গেলেন টাইব্রেকারে।

সেখানেও স্যান্ডগ্রেনের সামনে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার সুযোগ এসেছিল চারবার। প্রতিবারই ফেদেরারের অভিজ্ঞতার সামনে হার মানতে হয়েছে তাকে। সুইস তারকা ১০-৮ ব্যবধানে টাইব্রেকারটি জিতলে ম্যাচটা গড়ায় পঞ্চম সেটে।

সাত-সাতটা ম্যাচ জয়ের সুযোগ হারিয়ে টেনিসের আত্মবিশ্বাস তখন গিয়ে পৌঁছায় তলানিতে। এরই সুযোগ নিয়ে শেষ সেটটা সহজে জেতেন ফেদেরার। ৬-৩, ২-৬, ২-৬, ৭-৬ (১০-৮), ৬-৩ গেমের জয় নিয়ে পা রাখেন শেষ চারের লড়াইয়ে। বনে যান শেষ ৪৩ বছরে অজি ওপেনের সেমিফাইনালে আসা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ও।

শেষ পাঁচ দিনের সর্বমোট ১৪টি সেট আর চারটি টাইব্রেক খেলেছেন ২০বারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী। ৩৭ বছর বয়সে আর যাই হোক, অত ধকল শরীরের পক্ষে সওয়া কঠিন। যারই ফলে এদিন তৃতীয় সেটে কুঁচকির চোটের জন্য মেডিক্যাল বিরতি নিতে হয়েছিল তাকে।

এত সব বাধা পেরিয়ে জয় পাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবানই ভাবছেন ২১তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের খোঁজে ওশেনিয়ায় আসা ফেদেরার, ‘আমি বলব, কিছু কিছু সময় আপনাকে ভাগ্যবান হতে হয়, যখন আপনি নিয়ন্ত্রণে থাকেন না। আমি এই জয়ের যোগ্য নই, তবে আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমি দারুণ খুশি।’

প্রতিপক্ষ স্যান্ডগ্রেন সাত-সাতটা সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন এদিন, যার ফলে কিছুটা বিস্ময় ঝরেছে ফেদেরারের কণ্ঠে, ‘একপর্যায়ে আমার মনে হয়েছিল সে সহজেই হারিয়ে দেবে আমাকে। কিন্তু সে সেটা করতে পারেনি। আমি আজ অবিশ্বাস্যভাবে ভাগ্যবান ছিলাম।’

জকোভিচকে অবশ্য দিনের অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে অতো কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। কানাডিয়ান মিলোস রাওনিচের বিপক্ষে সরাসরি সেটের জয় নিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেন তিনি। এ নিয়ে টানা চতুর্থ ম্যাচে সরাসরি সেটে জেতা ‘জোকার’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার খেলবেন শেষ তিনটি ম্যাচে ১৪ সেট খেলা ফেদেরারের বিপক্ষে।