যমুনা অয়েল কোম্পানির চাঞ্চল্যকর দেড় লক্ষাধিক টন তেল পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন থেকে এর ক্ষতিপূরণ আদায় করা হচ্ছে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা। গত বছরের ২৫ অক্টোবর পতেঙ্গায় যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান ডিপো থেকে দু’টি জাহাজে অতিরিক্ত ডিজেল ভর্তি করে এ তেল পাচারের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা থেকে পাচারকৃত এক লক্ষ ৫১ হাজার ৮৯০ লিটার ডিজেলের মূল্য আদায়ের জন্য যমুনা অয়েল কোম্পানি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি অভিযুক্তদের ব্যাপারে এর আগের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে দায়-দায়িত্ব এবং ক্ষতির হার নিরুপণ করে।
অভিযুক্ত ছয়জন হচ্ছেন—প্রধান ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত এজিএম নুরুদ্দিন আহমেদ আল মাসুদ, সহকারী ম্যানেজার প্রিয়তোষ নন্দী, সিনিয়র অফিসার সমীর কুমার পাল, অপারেশন অফিসার নুরুল আলম, জায়েদ মুরাদ এবং বাল্ক অফিসার আবদুর রাজ্জাক।
সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে পাঁচ সদস্যের দায়-দায়িত্ব এবং ক্ষতির হার নিরুপণ কমিটি পাচার হওয়া তেলের মূল্য ৯৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৬৪৪ টাকা নির্ধারণ করে। অভিযুক্তদের মধ্য থেকে জায়েদ মুরাদ ছাড়া বাকি পাঁচজন থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করার ব্যাপারে কমিটি সুপারিশ করেন। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এজিএম নুরুদ্দিন আহমেদ আল মাসুদ এবং বাল্ক অফিসার আবদুর রাজ্জাক প্রত্যেক থেকে মোট ক্ষতির শতকরা ৩২ দশমিক ৫ ভাগ টাকা আদায়ের কথা বলা হয়। এছাড়া সহকারী ম্যানেজার প্রিয়তোষ নন্দী থেকে ২০ ভাগ। সিনিয়র অফিসার সমীর কুমার পাল থেকে ১০ ভাগ এবং অপারেশন অফিসার নুরুল আলম থেকে শতকরা ৫ ভাগ টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের আর্থিক ক্ষতি নিরুপণ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান যমুনা অয়েল কোম্পানির জিএম (মার্কেটিং) আইয়ুব হোসেন। সদস্য ছিলেন জিএম (অপারেশন) মঞ্জুর রহমান, ডিজিএম নাজমুল হক, ডিজিএম (অডিট) খসরু আজাদ এবং ম্যানেজার ইজাজুর রহমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য জানান, গতকাল সোমবার আর্থিক ক্ষতি নিরুপণ কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনছারি জানান, রিপোর্ট পেয়েছি। তবে তা এখনও খুলে দেখিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ অক্টোবর পতেঙ্গা প্রধান ডিপো থেকে নৌপথে ফতুল্লাহ এবং খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে নেওয়ার জন্য এমটি মনোয়ারা এবং এমটি রাইদা জাহাজে তেল ভর্তি করা হয়। এ দু’টি জাহাজের মধ্যে এমটি মনোয়ারা জাহাজে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৭৮২ লিটার এবং এমটি রাইদা জাহাজে ৫০ হাজার ৯০০ লিটার অতিরিক্ত তেল ভর্তি করে পাচার করা হয়।