শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
অনুজকান্তি দাশ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার মহাসড়কে অবৈধ যানের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। শহরের পৌর এলাকার মৌলভীবাজার সড়কে অবস্থিত চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। ফলে প্রধান সড়কে যানজটের কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ পথচারীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শীলা পাল, আনোয়ারা বেগম, বিলকিছ আক্তার, মিনতি দেবসহ আরো অনেকেই জানান, বিদ্যালয়ের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণে বিশেষ করে বিদ্যালয় শুরু ও ছুটির সময় এবং পরীক্ষার সময় মারাত্মকভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে তারা শিশু-শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন না। পথচারী শামীম হোসেন, আবদুর রহমান, পীযূষ দাশ, অসীম রায়সহ আরো অনেকেই জানান, এখানে রিকশা থেকে নামা কিংবা পায়ে হেঁটে রাস্তায় চলাচলের কোনো অবস্থা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের থেকে সিলেটের অভিমুখে সড়কের ডানপাশে অবস্থিত থানার সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে বিশাল লম্বা লাইনে প্রায় অর্ধশতাধিক সিএনজি লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দিনের সারাক্ষণ সিএনজিগুলো সড়কে ওঠানামা করার কারণে সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি দূরপাল্লার যানবাহনগুলোও এখানে এসে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে থানা বা বিদ্যালয়ের সামনে স্ট্যান্ড স্থাপনের কোনো বৈধ অনুমতি নেই উল্লেখ করে মৌলভীবাজার রোড গ্রুপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল আহমেদ জানান, আমরা শহরের বাইরে চলে গেলে সেখানে আমাদের গাড়িতে যাত্রী উঠতে চায় না। অন্য গাড়িতে করে চলে যায়। তাই আমাদের দুই পয়সা ইনকামের জন্য আমরা এখানে অবস্থান করি।
চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার বলেন, বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সিএনজি স্ট্যান্ডটি মারাত্মকভাবে ঝুঁকি বহন করছে।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু বলেন, শ্রীমঙ্গল পৌরশহরকে যানজট ও কোলাহলমুক্ত রাখতে আমাদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবু ট্রাফিক পুলিশ, থানা প্রশাসন ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুছ ছালেক দুলাল বলেন, বিষয়টি পুলিশের একার পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সার্বজনীনভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে ছিল না। তবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির পরবর্তী মাসিক সভায় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই স্ট্যান্ডটিকে এখান থেকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।