ভেদরগঞ্জে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

উর্বরতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা

আসাদ গাজী, ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কৃষিজমির মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এছাড়া এ মাটি ডোবা-নালা ভরাটসহ বিভিন্ন কাজের জন্যও নেওয়া হচ্ছে। ফলে ফসলি জমির উর্বরাশক্তি হারিয়ে উত্পাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইটভাটা এলাকা ও এর আশপাশের বেশির ভাগ ফসলি জমির মাটির পাঁচ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে কাটা হয়েছে। এতে এসব ফসলি জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে।

মাটি বিক্রি করছেন এমন চার-পাঁচ জন কৃষক জানান, ইটভাটার মাটি বিক্রি করার জন্য এক শ্রেণির দালাল গ্রামে গ্রামে ঘুরে টাকার লোভ দেখিয়ে কৃষকদের উত্সাহ জোগায়। জমির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা অনেক কৃষকই জানে না।

মাটি বিক্রি করে জমির ক্ষতি করছেন কেন জানতে চাইলে ছয়গাঁ গ্রামের কৃষক কাইছার ঢালী বলেন, ধানের দাম নেই। তাই মাটি বিক্রি করে দিয়েছি।

কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জসিম ঢালী বলেন, মাটি কেটে নেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কৃষকরা পরামর্শ মানছেন না। এতে কৃষিজমির খুব ক্ষতি হচ্ছে।

শরীয়তপুর কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আমির হামজা বলেন, ফলনযোগ্য জমির উত্পাদনশক্তি জমা থাকে মাটির ছয় থেকে ১৮ ইঞ্চি গভীরতায়। এই টপ সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমির আর মৃত্তিকা প্রাণ থাকে না। ফলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ঐ জমিতে কোনো ফসল উত্পাদিত হয় না।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, জমির টপ সয়েল বিক্রি করলে জমির উত্পাদনশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। জমির টপ সয়েল বিক্রি না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফ বলেন, ফসলি জমির টপ সয়েল ইটভাটায় বিক্রি করে পুকুর খনন করলে এ জমি আর কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে কারণে এ এলাকায় পুকুর খননকালে চার-পাঁচটি ভেকু মেশিনের মালিককে জরিমানা করেছি। অপর তিনটি ভেকু মেশিনের ব্যাটারি জব্দ করে রেখেছি। তবে যে হারে এ উপজেলায় ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে তাতে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য খাদ্য ঘাটতিতে বড়ো ধরনের হুমকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।