সংস্কারের অভাবে বেহাল, জনদুর্ভোগ

হাজিমারা-চমকাবাজার সড়ক

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় সংলগ্ন হাজিমারা থেকে চমকাবাজার সড়কটি সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং, ইট, বালু ও খোয়া উঠে গিয়ে তিন ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুকনার সময় ধুলোবালি আর বর্ষায় কাদাপানিতে যানবাহন নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার গাজী, রশিদ মিয়া বলেন, হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি স্লুইজ গেট থেকে চমকাবাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এই সড়কটি তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত এবং রায়পুর উপজেলায় যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র সড়ক। অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে পাঁচ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধ সড়কটি হায়দারগঞ্জ হয়ে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চমকাবাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রায় ছয় মাস আগে সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়। কৃষি সমৃদ্ধ উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় হায়দারগঞ্জ ও খাসের হাটবাজারে শত শত পণ্য ও যাত্রীবাহী  যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। প্রায়ই আহত হওয়ার পাশাপাশি ঐ গর্তে ছোটো বড়ো যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও অসুস্থ রোগীরা উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সিএনজিচালক আবুল বাসার ও মানিক বলেন, সড়কটি বেহালের কারণে মাঝে-মধ্যেই যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। পাঁচ কিলোমিটার সড়কটিতে অসংখ্য গর্ত রয়েছে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে আর শুকনার সময় ধুলোবালিতে গাড়ি চালাতে খুবই সমস্যা হয়। যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে এ সড়কে।

উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আহম্মদ জানান,  সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুরবস্থার বিষয়ে অনেকবার বিভিন্ন জায়গায় বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। এলজিইডি রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ জানান, চমকাবাজার থেকে হাজিমারা স্লুইজগেইট পাঁচ কিলোমিটার এবং খাসেরহাট থেকে পাটোয়ারী রাস্তার মাথা ৯ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু হবে।