বিয়ে বাড়িতে এখন আর হাসি নেই, কেবলই কান্নার রোল। মৌলভীবাজার শহরে এম সাইফুর রহমান সড়কের একটি দ্বিতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেও সেখানে বিয়ের আনন্দ, আগত অতিথিদের হই-হুল্লোড় ছিল। কিন্তু আগুন নিমেষে কেড়ে নিল সব উচ্ছ্বাস। ‘উপহার’ দিল পাঁচটি পোড়া মৃতদেহ। যেন এক ‘মৃত্যুপুরী’!
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্যাসের লাইন থেকে আগুন লেগে বদলে দিল সুভাষ রায়ের বাসার দৃশ্যপট। ভবনের নিচ তলার জুতার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা ভয়াবহ রূপ নিয়ে পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ওপরের তলায় অবরুদ্ধ হয়ে নিহত হন সুভাষ রায় (৬০), তার মেয়ে পিয়া রায় (১৪), ভাই প্রণয় রায়ের স্ত্রী দিপ্তী (৪৫), শ্যালক সজল রায়ের স্ত্রী দীপা ও সজলের আড়াই বছর বয়সি শিশুকন্যা বৈশাখী। এই পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ভবনের নিচ তলায় ছিল জুতার দোকান ও ওপরে পরিবার নিয়ে বহু দিন ধরে বাস করতেন সুভাষ রায়। এই বাড়িতে গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয় সুভাষের মেয়ে পিংকির বিয়ে। সোমবার ছিল বৌভাত অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বাড়িতে স্বজনরা এসেছিল।
মৌলভীবাজার সদর থানা ও মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে শ্রীমঙ্গলের আরো তিনটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, আগুন লাগার পর দোকানের ওপরের বাসার লোকজন আটকা পড়েন। আগুন নেভার পর পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস। সেখানে লাশগুলো ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।