বন্ধ হয়নি এসিড সন্ত্রাস

গত ২৯ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় নড়াইল সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর এসিড দ্বগ্ধ হবার খবর। ওই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আসামি কে তা জানা যায়নি। সেদিন রাতে তার স্বামী বাড়ি ছিলেন না। ঘরের দরজা খোলা ছিল। এই সুযোগে কে বা কারা এসিড নিক্ষেপ করে তা জানা যায়নি।

বরিশালের রুনা লায়লা বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভোলায় দুবোনকে এসিড নিক্ষেপ করা হয় কিছুদিন আগে। এদের মধ্যে এক বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন  চিকিত্সকরা। মেয়েদের চিত্কার শুনে সেখানে গিয়ে মাও এসিডে আক্রান্ত হন।

এভাবে প্রায়ই আমাদের সমাজে যৌতুক না দেওয়া, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া, সম্পত্তির অংশীদার, পারিবারিক কলহসহ নানাবিধ কারণে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে নারী। একটা সময় এসিড সন্ত্রাস মহামারি আকারে ছিল।  দুটি বিশেষ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হলে এবং কয়েকটি মামলা কার্যকরভাবে চলার পর কিছুটা কমে এসেছে এই সন্ত্রাসের দৌরাত্ম। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রে আইন যথাযথভাবে না পালন করা, মনিটরিং এর অভাব ইত্যাদি কারণে এসিড সন্ত্রাস কমে এলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। চলতি বছর ৯ মাসে ২১ জন নারী এসিড নিক্ষেপের শিকার এবং ২০১৭ সালের ৪১টি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

এসিড সারভাইবাল ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯৯টি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনায় ৩ হাজার ৭৭৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে নারী এসিড সন্ত্রাসের শিকার এক হাজার ৯৪৩ জন, পুরুষের সংখ্যা ৯৩৪ জন, শিশু ১৮ বছরের নিচে ৮৯৯ জন। মোট ৩ হাজার ৭৭৬ জন এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন।

একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করছেন এসিড সন্ত্রাসের শিকার এক নারী। তিনি পারিবারিক কলহের কারণে এসিড নিক্ষেপের শিকার হন। তিনি বলেন, নিজের চেহারা আয়নাতে দেখার পর আরও বেশি জেদি করেছিল আমাকে। অনেক দিন মানুষের সামনে আসতে পারিনি। তার মামলার বিচার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন,  বিচার হলেই বা কি! আমি তো আর আগের মতো হতে পরবো না। তারপরও বিচার হয়েছে এটা একটা তৃপ্তি এনে দেয়।

এসিড সারভাইবাল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০২ এবং এসিড সহিংসতা প্রতিরোধ আইন-২০০২ হওয়ার পর এসিড সন্ত্রাসের সংখ্যা কমে এসেছে। কিন্তু ২০০২ সাল থেকে আজ অবধি একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া, যাবজ্জীবন শাস্তি হলে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসামি বেরিয়ে আসা এবং এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়বিধি যথাযথভাবে পালন না করা, স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রয়ের উপর নজরদারি থাকার কথা আইনে উল্লেখ থাকলেও তা কার্যকর না হওয়া প্রভৃতি কারণে সমাজে এসিড সন্ত্রাস ঘটে চলেছে।