সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসনে বিচার

বোল্টনকে সাক্ষ্য দিতে চাপ বাড়াচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা

সিনেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে নতুন করে সাক্ষী ও তথ্যপ্রমাণ হাজির করার দাবি জানিয়ে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটররা চাইছেন—নতুন সাক্ষী না এনে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে। কিন্তু বিচারের মাঝামাঝি সময়ে এসে বোমা ফাটালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তার অপ্রকাশিত একটি বইয়ে তিনি দাবি করেছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সঙ্গে দর      কষাকষির নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইউক্রেন তদন্তে সহায়তা না করলে দেশটির জন্য বরাদ্দ সামরিক সহায়তা স্থগিত রাখতে বলেন প্রেসিডেন্ট। সিনেটে বিচার চলাকালে বোল্টনের এই তথ্য প্রকাশের পর রিপাবলিকান শিবিরে যেমন স্থবিরতা চলছে, তেমনি চাপ বাড়াচ্ছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। যদিও ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সিনেটের বিচারে বোল্টনকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার জন্য চাপ বাড়ছে। বোল্টনের এই দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডিফেন্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গত সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি চান না বোল্টন সিনেটে সাক্ষ্য দিক।

প্রথমদিকে রিপাবলিকান সিনেটররা নতুন সাক্ষী আনার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখালেও বোল্টনের নতুন তথ্য সামনে আসার পর অনেকেই বলছেন, বোল্টনের সাক্ষ্য নেওয়া উচিত। সিনেটর মিট রমনি বলেছেন, বোল্টনকে সাক্ষী হিসেবে আনতে আরো রিপাবলিকান সিনেটররা আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে আশা করি। আরেক রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স টুইট করে বলেছেন, বোল্টনের এই বই মামলায় সাক্ষীদের আনার বিষয়টি জোরালো করেছে। ইতিমধ্যে জন বোল্টন সিনেটে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমি কখনোই বোল্টনকে বলিনি যে, ইউক্রেনের সহায়তা ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে আগে কখনো এ কথা বলেননি। এখন যদি তিনি বলেন, সেটি শুধু বই বিক্রির জন্য। বোল্টন ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।