এ রকম রক্ষণাত্মক ক্রিকেট দেখিনি

পাকিস্তান সফরে ভরাডুবিই হয়েছে বাংলাদেশ দলের। পাকিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজটা হেরেছে ২-০ তে। তৃতীয় ম্যাচটা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলেও গোটা সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে লড়াই করতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

পাকিস্তানে দলের সঙ্গে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে যারপরনাই হতাশ তিনি। রক্ষণাত্মক ব্যাটিংটা দৃষ্টিকটূ লেগেছে তার কাছেও। দুই ম্যাচেই দেড়শ পার হয়নি বাংলাদেশের স্কোর। প্রথম ম্যাচে ১৪১, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান থেকে ফেরার পর গতকাল সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ব্যাটিং অর্ডার অবাক করেছে তাকে। সার্বিক বিষয় নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসবেন তিনি।

গতকাল দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পাপন বলেছেন, ‘অনেক দিন পর বাংলাদেশের খেলা দেখে মনে হয়েছে, এটা বাংলাদেশ দল না। মনে হয়েছে সাধারণ খেলার উলটোটা খেলেছে দল। এ রকম পরিস্থিতি কখনো দেখিনাই। ১২-১৪ ওভার যাওয়ার পরও এ রকম রক্ষণাত্মক ক্রিকেট দেখিনি। এটা একদম নতুন ব্যাপার।’

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সমালোচনা করেছেন বিসিবি সভাপতি। মুশফিকুর রহিম না থাকার পরও ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে ওপরে আনেননি মাহমুদউল্লাহ। পাপন বলেছেন, ‘চারে যেহেতু মুশফিক নাই, রিয়াদ আসতে পারে। তার অনেক ইচ্ছা ওপরে খেলার। কিন্তু ওকে মনে হয়েছে পারলে সবার শেষে নামে।’

পাকিস্তান সফরে প্রতি ম্যাচেই ব্যাটিং অর্ডারে অনেক পরিবর্তন এসেছে। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলে ধারণা পাপনের।

বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘কোচও নতুন। সে প্রথম তামিমের খেলা দেখল। এর আগে সে তামিমকে পায়নি। নতুন কোচের জন্যও সময় লাগবে। নতুন কোচ দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করছে। তিনি নিরীক্ষাও বেশি করছেন হয়তো।’

ব্যক্তিগত কারণে তামিম ভারত সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়ে পাকিস্তানে যাননি মুশফিক। যার কারণে মিডল অর্ডারে বড়ো শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। বারবার এমন পরিবর্তন দলের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি।

গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এরপর জিম্বাবুয়ের সাথে মুশফিক খেলবে। কিন্তু তারপর আবার পাকিস্তানে টেস্ট। তখন আবার পরিবর্তন। প্রতি খেলার আগে পরিবর্তন করা খুব কঠিন।’

মুশফিকের নিরাপত্তার ভয় অমূলক কিনা জানতে চাইলে পাপন বলেন, ‘আগে তামিম, সাকিব কিছু সিরিজে যায়নি। এখন মুশফিক গেলো না। হঠাত্ করে না করলে এটা আমাদের জন্য সমস্যা। এটা আমাদের সমাধান করতে হবে। কথা বলতে হবে।’

মুশফিকের না যাওয়ার সিদ্ধান্তে কিছুটা বিরক্তিই ধরা পড়ল বোর্ড সভাপতির কণ্ঠে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে মুশফিককে বলা প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘বলা উচিত কি-না আমরা জানি না। আমাদের একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। হঠাত্ করে বললে তো সমস্যা, আগেই বলতে হবে, আগে মানে ছয় মাস। কারণ হুট করে নতুন কাউকে খেলানো যায় না।’ সিরিজ থেকে ক্রিকেটারদের এভাবে সরে দাঁড়ানো প্রত্যাশার বাইরে ছিল বিসিবি সভাপতির, ‘এটা আমাদের কঠিন বছর। দেশের বাইরে অনেক খেলা। টেস্ট, টি-টোয়েন্টিতে আমাদের সমস্যা হয়, এই খেলাই বেশি। তামিমকে দুটি সিরিজে পাইনি, সাকিব নেই এখন মুশফিক নেই, এ রকম আমরা আশা করিনি। এটা আশার মধ্যে ছিল না।’