চিত্রাপাড়ে হুমকিতে গুইসাপ

খাবারের সন্ধানে হানা দিচ্ছে লোকালয়ে

পরিবেশবান্ধব প্রাণী হিসেবে গুইসাপের ভূমিকা কম নয়। পচাগলাসহ বিভিন্ন প্রাণিদেহ ও উচ্ছিষ্ট খেয়ে এরা সাবাড় করে। এছাড়া খেতের ইঁদুর ও বিষধর সাপ শিকারেও এরা বেশ পটু। কিন্তু চিতলমারী উপজেলার চিত্রাপাড়ে ঐ প্রাণীটি এখন হুমকিতে রয়েছে। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিয়ে লোকজনের হাতে মারা পড়ছে প্রায়ই। উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ রিনা বিশ্বাস, চম্পা বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, এখানে বিশেষ করে কুমির আকৃতির বড়ো গুইসাপের উপদ্রব বেশি। এরা দিনেরবেলায় বাড়ির আশপাশে হানা দিয়ে হাঁস-মুরগি তুলে নিয়ে নদীতে নেমে যায়।  উপজেলার সীমান্তবর্তী চিত্রা নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা মিনি সুন্দরবনে এদের উপস্থিতি এখনো চোখে পড়ার মতো। তবে এই বনে এদের খাদ্য সংকট রয়েছে বলে অনেকের অভিমত। তাই স্থানীয় লোকজনের হাঁস-মুরগি ও ঘেরের মাছ ধরে খেয়ে ফেলায় এদের হত্যা করা হচ্ছে। এখানে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা নানা প্রকার গুইসাপ দেখা যায়। ৩০ থেকে ৪০ কিলোগ্রাম ওজনের এই সরিসৃপ রয়েছে এখানে। এদের শরীরে গাঢ় বাদামি বা কালচে হলুদ রঙের রিং রয়েছে। লেজ চ্যাপটা ও শিরযুুক্ত। বন জুড়ে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় এদের। তবে বর্তমানে লোকজনের হাতে মারা পড়ায় এ প্রজাতির গুইসাপ এখন হুমকিতে রয়েছে। প্রাণী ও পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান জানান, গুইসাপ উপকারী প্রাণী। এরা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। মিঠা ও লবণ পানি এলাকা, নদীর মোহনা, সুন্দরবন এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলে এদের বসবাস। এদের পরিবেশবান্ধব বলা চলে। এরা মরা প্রাণিদেহ ও উচ্ছিষ্ট খায়, যে কাজটি এক সময় শকুনকে করতে দেখা যেত। দেশে যেহেতু শকুন এখন প্রায় বিলুপ্ত প্রাণী, সেহেতু পরিবেশের জন্য গুইসাপ রক্ষা করা প্রয়োজন।