চালকের বেশে ছিনতাই-খুন লটারির নামে প্রতারণা

প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে অপরাধ সংঘটনের ধরনেও। আর এতে প্রতিনিয়ত নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে নানা শ্রেণির লোক। এখন ছিনতাইকারীর ভূমিকায় নেমেছে খোদ চালকেরাই। সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা ধরা পড়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে হলে আগে লোভ সংবরণ করতে হবে। কারণ যারা প্রতারিত হচ্ছে, তারা মূলত লোভে পড়ে প্রতারিত হয়। হতে হবে সচেতন।

চালকের আড়ালে ছিনতাই-খুন :রাত ৮টা থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের ছিনতাই ও হত্যার কিলিং মিশন নিয়ে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় নামত সিএনজি অটোরিকশাচালক নূরুল ও তার সহযোগীরা। এক রাতে সর্বোচ্চ ছয়টি ছিনতাই এবং একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার রেকর্ড আছে এই চক্রের। সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা এমনই এক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। চক্রের মূল হোতা নূরুল ইসলাম। দুই সহযোগী আবদুল্লাহ বাবু ও জালাল।

এ ব্যাপারে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হাফিজ আল ফারুক বলেন, গ্রেফতারকৃত তিনজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের এই কর্মকতা জানান, গ্রেফতার নুরুল ইসলাম মূলত সিএনজি অটোরিকশাচালক। সিএনজি চালনোর আড়ালে তার মূল পেশা ছিনতাই। নুরুল ইসলামসহ আরো আট জন মিলে তারা গড়ে তুলেছে সিএনজিকেদ্রিক দুটি ভয়ংকর ছিনতাই ও কিলিং গ্রুপ। রাত ৮টার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আশুলিয়া, আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, গুলশান, ভাটারা, খিলক্ষেত, বাডডা, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, রামপুরা, ৩০০ ফুট, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ড এলাকায় চলতে থাকে তাদের অপকর্ম। মূলত সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে উঠিয়ে ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বাইরে দুটি এলাকায় গত দুই মাসে তারা আরো চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে নুরুল ইসলাম স্বীকার করেছে।

জাপানি নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা :গুলশান থানার পুলিশ জানায়, মেট্রো রেল প্রজেক্টে কর্মরত জাপানি নাগরিক নারো ওছি গত ২৩ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ভাড়া করা একটি ট্যাক্সি নিয়ে গুলশানের বাসায় আসেন। গাড়ি থেকে মালামাল নামানোর সময় একটি ব্যাগ গাড়িতে থেকে যায়। উক্ত জাপানি নাগরিক চালককে ভাড়া দিয়ে গাড়ি চেক করার জন্য বললে চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। গাড়িতে ছিল ব্যাগে রাখা ১০ হাজার জাপানি মুদ্রা (ইয়েন), একটি ক্যামেরা, কোম্পানির ইলেকট্রিক ডিকশনারিসহ অন্যান্য কাগজপত্র। এ ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মামলা দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ভাটারা থানা এলাকা থেকে গাড়ির ঐ চালক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। খোয়া যাওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধার করা হয়।

প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা :৫৫ লাখ টাকা আত্মসাত্কারী প্রতারক রুবেল মুন্সীকে সিআইডি পুলিশ গত ২৫ জানুয়ারি ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো-পূর্ব) কানিজ ফাতেমা বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামি ছদ্ম নাম ব্যবহার করে এবং তার অন্য সহযোগীরা বিভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের নিকট কোম্পানির লটারিতে গাড়ি, বাড়ি ও মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে বলে প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা একাধিক বিকাশ একাউন্ট নম্বরের মাধ্যমে হাতিয়ে নিত।