‘বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন ধারা সৃষ্টিতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন কথাশিল্পী শওকত আলী তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলীর স্থান চিরস্থায়ী। কথাসাহিত্যিক শওকত আলী স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গতকাল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহিদ হাসান মিলনায়তনে প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান গণপ্রকাশন কথাশিল্পী শওকত আলীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। শওকত আলীর ওপরে আলোচনা করেন লেখক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। আরো বক্তব্য রাখেন শওকত আলীর সন্তান আসিফ শওকত কল্লোল, নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল রবিউল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রকাশনের পরিচালক মাহমুদুল হাসান মানিক।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলীর স্থান চিরস্থায়ী। তার প্রদোষে প্রাকৃতজন একটি অসাধারণ উপন্যাস। তিনি সেই উপন্যাসে নতুন ভাষা নির্মাণ করেছেন, পুরাকালের ভাষার আশ্রয়ে। এমনিভাবে তার অন্য প্রতিটি উপন্যাসে সেই সময়ের রাজনীতি, সমাজনীতি এবং মানুষের জীবনে কেমন প্রভাব পড়েছিল তা অনুপুঙ্খভাবে উঠে এসেছে। শওকত আলীর উপন্যাস আমাদের মধ্যে বিশিষ্ট, এটি সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন। আজ যখন তিনি নেই তখনো তার রচনা সমাদর লাভ করছে। তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে যে ভূমিকা পালন করেছেন তা বাংলাদেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে সবসময় স্মরণ করবে।
সেলিনা হোসেন বলেন, ৪৭ পরবর্তী দেশভাগের সময় যে নতুন সাহিত্যধারার সূচনা হয়েছিল তার অন্যতম স্রষ্টা শওকত আলী। সেইসময়ে আমাদের লেখকরা ৫০ দশকের পরে নতুন ধারায় প্রবাহিত করেছেন বাংলাদেশের সাহিত্যধারাকে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নতুন সাহিত্যধারা সৃষ্টি হয়েছে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত যারা কথাসাহিত্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন কথাশিল্পী শওকত আলী তাদের মধ্যে অন্যতম। আর কবিতায় শামসুর রাহমান।
রাশেদ খান মেনন বলেন, শওকত আলী নিভৃতচারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন কিন্তু তার রচনা বাংলা সাহিত্যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। যা সাহিত্যে নির্দিষ্ট ছাপ রেখে গেছেন। তার রচনায় বাংলার একটি সময়কাল ইতিহাসের মতো উঠে এসেছে।
রবিউল হোসেন বলেন, কথাশিল্পী হিসেবে শওকত আলীর রচনায় বাংলার মাটি ও মানুষের যন্ত্রণা ও লড়াই থেকে বিজয় তা মাটি ও মানুষের কাছ থেকে সুযোগসন্ধানী শ্রেণির কাছে চলে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে বারবার।
মুজতবা আহমেদ মুরশেদ বলেন, শওকত আলী একদিকে সাহিত্যে তুলে ধরেছেন সামাজিক অবক্ষয় অন্যদিকে মেলে ধরেছেন সমাজের চলমান অন্যায় ও মানুষের ওপর চলা উত্পীড়নের কথা।
আসিফ শওকত কল্লোল বলেন, বাবা নেই কিন্তু তাকে নিয়ে তার লেখা নিয়ে দেশে বিদেশে গবেষণা হচ্ছে। তার মৃত্যুর পর এখন খুঁজে পাচ্ছি শওকত আলীর রচিত কবিতা, বিষয়ভিত্তিক নানান গবেষণা ও লেখা।