মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও প্রস্তাব করেছেন এবং পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলেছেন। এই প্রস্তাবে ট্রাম্প আসলে একতরফাভাবে ইসরাইলের স্বার্থরক্ষা করার পরিকল্পনাই করেছেন।
স্বাভাবিকভাবেই এই প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এটি নাকচ করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে বলছি, জেরুজালেম বিক্রির জন্য নয়, আমাদের সব অধিকার বিক্রি হবে না এবং এ নিয়ে দর কষাকষিও হবে না এবং আপনাদের চুক্তি, ষড়যন্ত্র পাস করা হবে না। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও এই চুক্তি নাকচ করেছে এবং বলেছে, এর লক্ষ্য হচ্ছে ‘ফিলিস্তিনিদের জাতীয় প্রকল্প নিঃশেষ করে দেওয়া’।
জাতিসংঘ বলেছে, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের আগে যখন ইসরাইল পশ্চিম তীর ও গাজা দখল করে নেয়, সেই অঞ্চলে সীমান্ত রেখা স্থাপনের মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রের সমাধানে অটল থাকবে তারা। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘ এমন একটি শান্তি চুক্তি চায় যা জাতিসংঘের প্রস্তাবনা, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্মতির ভিত্তিতে হবে।
ইসরাইলের মানবাধিকার গোষ্ঠী বিসালেম বলেছে, এই প্রস্তাবটি এক ধরনের জাতি-বিদ্বেষ তৈরি করবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনিদের পরিণত করা হবে ‘ক্ষদ্র, বেষ্টিত, বিচ্ছিন্ন ছিটমহলে, যাদের নিজেদের জীবনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না’। ইসরাইলের পিস নাউ বলেছে, এই পরিকল্পনা ‘বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন’। তাদের মতে, বসতিগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার সবুজ সংকেত দেওয়ার বিনিময়ে ত্রুটিযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা অবাস্তব এবং এটি স্থিতিশীলতা আনবে না। এদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে শনিবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে আরব লীগ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে ফিলিস্তিন। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সেখানে স্থানান্তরে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের জন্য সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় সহায়তা বন্ধ করেছে এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক সংস্থা ‘রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজির (ইউএনআরডাব্লিউএ) জন্য সব ধরনের অনুদানও বন্ধ করেছে। পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি যে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী, চার দশকের এমন অবস্থান থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র।