বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) বিটুমিনের মাত্রাতিরিক্ত উচ্চমূল্যের কারণে দেশের সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে দেদারসে ব্যবহূত হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত স্বল্পমূল্যের নিম্নমানের বিটুমিন। এমন অভিযোগ করেছেন দেশের সড়ক নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তাদের মতে, এই বিটুমিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ঘন ঘন সড়ক বিনষ্ট হয়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। এই ক্ষতির শিকার সরকারও।
বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) সরোয়ার আলম ইত্তেফাককে বলেন, বিপিসির বিটুমিনের উচ্চমূল্যের বিষয়টি এক সপ্তাহের মধ্যে সভা ডেকে রিভিউ করা হবে। বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা ইআরএলের উত্পাদিত বিটুমিন বিক্রি করছে না কেন। তবে এই সমস্যার কথাটি বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এলে সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। প্রতি মাসেই বিপিসির সভায় বিভিন্ন বিষয় রিভিউ করা হয়। মাঝখানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসির কাছে ১ লাখ টন বিটুমিন চেয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সরকারি ঐ প্রতিষ্ঠানটি চুপচাপ হয়ে যায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা রিভিউ সভা করে ইআরএলে উত্পাদিত বিটুমিনের মূল্য চলতি বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করব। আমি এ বিষয়টি জানি যে, বিপিসির রিফাইনারিতে উত্পাদিত বিটুমিনের মান অনেক ভালো। বিপিসির এক গ্যালন বিটুমিন, বিদেশি দুই গ্যালন বিটুমিনের সমান।
বেসরকারি নির্মাণ সংস্থা রহমান করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মানিক কুমার বিশ্বাস এবং নির্মাণ সংস্থা ইউডিসির প্রকৌশলী রফিকুল বারি ইত্তেফাককে বলেন, সবচেয়ে ভালো মানের বিদেশি বিটুমিনের প্রতি টনের বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য ৩৫০ ডলার থেকে ৩৬০ ডলার, যার ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে বাংলাদেশি টাকায় মূল্য দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে উত্পাদিত একই মানের বিটুমিনের (লিকুইড) প্রতি টনের মূল্য রাখা হয়েছে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা। ইআরএলের ১৫০ কেজি ওজনের প্রতি ড্রাম বিটুমিনের মূল্য রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৪০০ টাকা, টনপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় ৬২ হাজার ৬০৪ টাকা। দেশে উত্পাদিত এই বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্যের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিংবা বিমানবন্দরের কাজও এই বিটুমিন দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশে প্রতি বছর বিটুমিনের চাহিদা ৭২ হাজার টন। ইআরএল উত্পাদিত বিপুল পরিমাণ বিটুমিন বিক্রি না হয়ে বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছে পড়ে আছে। অন্যদিকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টন বিটুমিন।