বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বাড়ছে চালের দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহের মধ্যেই কোনো কোনো চাল কেজিতে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনেও দাম বাড়ার এ তথ্য তুলে ধরেছে।
এদিকে হঠাত্ করে চালের দামের এই লাগামহীন বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। পেঁয়াজের ঝাঁজ পুরোপুরি কমতে না কমতেই চালের দামের এই বৃদ্ধিতে শংকিত ভোক্তারা।
চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে গতকাল বুধবার সাতটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার গতকাল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধানের দামের সঙ্গে চালের দামের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। কোনোক্রমেই যেন মিলমালিক এবং ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুবিধা নিতে না পারে। তিনি বলেন, কেউ কারসাজি করে চালের বাজার অস্থিতিশীল করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, আমন মৌসুম কেবল শেষ হয়েছে। দেশের হাটবাজারগুলোতে ধান-চালের ব্যাপক সরবরাহ। ব্যবসায়ীদের কাছেও প্রচুর পরিমাণে ধান-চাল মজুত রয়েছে। এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। একটি চক্র কারসাজি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা চালের দাম বাড়ার জন্য মিলারদের দায়ী করছেন। তারা বলেছেন, মিলাররা চালের দাম বাড়িয়েছে। ফলে সব পর্যায়েই চালের দাম বাড়তি। সরু চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বলে তারা জানান। মিল পর্যায়ে চালভেদে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে তারা জানান। গতকাল বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে সাধারণ মানের নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৪ থেকে ৬০ টাকা, ভালো মানের নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৪৬ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। মোটা চাল স্বর্ণা/ইরি ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়।
টিসিবির হিসেবে গত এক মাসের ব্যবধানে সাধারণ মানের নাজিরশাইল/মিনিকেট ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। মাঝারি মানের চালের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর মোটা চালের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।
চালের অন্যতম বড়ো মোকাম সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা। এই মোকামের চাল ব্যবসায়ী অসিত কুমার দত্ত ও এরশাদ আলী বলেন, মিলারদের কারসাজির জন্য চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।
এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার বেপারী এগ্রো প্রোডাক্টের স্বত্বাধিকারী তোফাজ্জল হোসেন ব্যাপারী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ করছে। এজন্য কিছু চাল সরকারের গুদামে যাচ্ছে। এজন্য চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর সঙ্গে মিলারদের কারসাজির কিছু নেই।
সাত মনিটরিং টিম : চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে গতকাল সাতটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে সরকার। ঢাকা মহানগরের বড়ো বড়ো পাইকারি বাজার সরেজমিন তদারকির জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারটি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে তিনটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।