সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা
উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী জেলা পাবনা। পাবনার রাজনৈতিক চালনায় স্ট্যায়ারিং সাঁথিয়া-বেড়ার বর্ষিয়ান নেতাদের হাতে। সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া (আংশিক) ৬৮ পাবনা-১ আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত স্বাধীনতার পর থেকেই। আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ১০ জন এমপি প্রার্থী মনোনয়ন বৈধ নির্বাচন কমিশনে। নিয়মানুযায়ী তারা সবাই বৈধ প্রার্থী। আর মাত্র কয়েক দিন ভোটের বাকী। আজও জমে উঠেনি প্রচারণা। আওয়ামী লীগের মনোনীত দুবার নির্বাচিত নৌকা মার্কার প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর প্রচারণা জমজমাট। কাক ডাকা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গানের তালে তালে হাট বাজার গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লাসহ সর্বত্র প্রচারণা চলছে। এ ছাড়া সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামাঞ্চলের কাঁচা রাস্তায় ঝুলানো হয়েছে নৌকা মার্কার পোস্টার। নৌকার পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পাড়া ও মহল্লা। ইউনিয়নভিত্তিক ভাগ করে চলছে পাড়া ও মল্লায় নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতি নিয়ত চলছে নৌকার ওঠান বৈঠক। নৌকা প্রতীকের পোস্টার ছাড়া জনসংহতি পার্টির প্রার্থী জুলহাস নাইনের কোদাল প্রতীকের কিছু পোস্টার ছাড়া বাকী ৮ প্রার্থীর প্রতীকের কোনো পোস্টার দেখা যায়নি। উপজেলাব্যাপী নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা নির্বাচন উত্সবে মেতে উঠেছে। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের তিনবারের সংসদ সদস্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সদ্য গণফোরাম থেকে আসা ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী ড. অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুবারের নির্বাচিত নৌকা মার্কার প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর।
ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত ভেবে তার প্রতিপক্ষরা ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনী গণসংযোগের সময় দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে হামলা চালায় তার গাড়ি বহরে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় আবু সাইয়িদের ব্যবহূত গাড়িটি। এ ঘটনায় আবু সাইয়িদ বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে সাঁথিয়া থানায় মামলা রুজু করেছেন। উপজেলার কোথাও ধানের শীর্ষের পোস্টার, ব্যানার ও মিছিল চোখে পড়েনি। তবে অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে স্বল্পসংখ্যক স্থানে নির্বাচনী মিটিং করতে দেখা গেছে। সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মওলানা হাসান আলী গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হোন্ডাযোগে রতনপুর গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা হাবজাতলা নামক স্থানে গতিরোধ করে কুপিয়ে জখম করে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে পাবনা পরে ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, হাসান আলী সন্ত্রাসীদের হাতে জখম হননি তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে।
অপরদিকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে একযোগে উপজেলার নন্দনপুর ইউপির জোড়গাছা বাজারের আ’লীগ অফিস, আতাইকুলা ইউপির রঘুনাথপুর বাজারের আওয়ামী লীগ অফিস ও ক্ষেতুপাড়া ইউপির ক্ষেতুপাড়া বাজারের আওয়ামী লীগ অফিসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। এ সময় গুলি ও বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে মর্মে অভিযোগ করছে নেতারা। পর দিন বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভার তালপট্টি, ধোপাদহের হলুদঘর ও ধুলাউড়িতে নৌকার অফিসে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন দুর্বৃত্তরা।
নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি বলেন, বিরোধীদের আতঙ্ক সৃষ্টির প্রশ্নই আসে না। বরং তারাই ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগের অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে। উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ আবারো নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করবে। তিনি এলাকায় যে উন্নয়ন করেছেন তা দেখে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে বলে আশা করেন।
এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন যুদ্ধাপরাধী মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকও তিনি পান। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাকে ভোটের মাঠে এখনো দেখা যায়নি। প্রচলিত রয়েছে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় মোমেন নিজেকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ আসনে অন্যরা হলেন— মুসলিমলীগের ডা. শফিকুল ইসলাম, জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির সরদার শাহজাহান, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির (এনপিপি) শাখাওয়াত হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আব্দুল মতিন ও গণসংহতির জুলহাস নাঈন, তরিকত ফেডারেশনের শরিফুল ইসলাম।