রাজশাহীতে ব্যাংক কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি

জুয়া খেলতেই ব্যাংকের ভল্ট থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা চুরি

আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যই ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি চুরি করেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল। গতকাল বুধবার ব্যাংকের টাকা চুরির কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন ফয়সাল। তিন দিনের রিমান্ডে থাকা ফয়সাল দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক এই জবানবন্দি দেন ।

এদিকে টাকা চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিম রাজশাহীতে এসে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান শাহ্ আলম জানান, এ ঘটনায় ফয়সাল একাই নাকি ব্যাংকের আরো কেউ জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভোল্টে টাকা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তত দুজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে, এক্ষেত্রে কী হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ফয়সাল ব্যাংকের টাকা দিয়ে সূবর্ণভূমি আবাসিক এলাকায় প্লট ক্রয় ও বাকি টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছেন বলে প্রথমে পুলিশকে জানান। কিন্তু পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন অন্তত দুই বছর ধরে বীট ৩৬৫ অ্যাপসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ব্যাংকের ভোল্ট থেকে চুরি করা টাকা তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন।

ফয়সাল পুলিশকে আরো জানায়, ব্যাংকের ভোল্টে সবসময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। ভল্টের সামনের লাইন ঠিক রেখে তিনি পেছনের লাইন থেকে টাকা চুরি করতেন। এতে ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তাদের সন্দেহ হতো না। ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে তিনিই দৈনিক টাকার হিসাব রাখতেন। খাতা-কলমে টাকার কোনো গরমিল ছিল না। তবে  গত ২৩ জানুয়ারি ভোল্টের সমস্ত টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এ সময় তিনি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, টাকাগুলো তার দুই বন্ধুকে এবং তার একটি প্রকল্পের কিস্তি দিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি সময়ও চান। তবে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে পুলিশে দেন ব্যাংকের ম্যানেজার ও অন্য কর্মকর্তারা। পরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা খান বাদি হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করেন।