ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত হিসাবযন্ত্র বসেনি সাত মাসেও

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক হিসাবযন্ত্র ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) স্থাপনের কাজ সাত মাসেও শুরু করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি স্থাপনের লক্ষ্য ছিল এনবিআরের। অর্থমন্ত্রীও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু এটি ক্রয় প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতেই পার হয়ে গেছে প্রায় ছয় মাস। ইস্যুটি নিয়ে অর্থমন্ত্রী গত নভেম্বরে নিজের অসন্তোষের কথাও জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিদায়ি এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছিলেন, জানুয়ারির শুরু থেকে পরীক্ষামূলক কিছু প্রতিষ্ঠানে ইএফডি চালু করা হবে। কিন্তু জানুয়ারি মাস শেষ হতে চললেও এ বিষয়ে এখনো অগ্রগতি নেই। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইএফডি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ইএফডিএমএস বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সিস্টেমের অ্যাক্সেস পেতে সমস্যার কারণে এটি চালু করায় জটিলতা তৈরি হয়। এ জন্য জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফেব্রুয়ারি থেকে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক এনবিআর ১০০টি ইএফডি মেশিন স্থাপন করবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে পুরোদমে চালু করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে গতিতে  এ ব্যবস্থাটি এগোচ্ছে,  তাতে চলতি অর্থবছরে এটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে।

সরকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে ২০০৮ সালে উদ্যোগ নেয়। তখন ১১ ধরনের ব্যবসায়ে ইসিআর (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও ঐ উদ্যোগে তেমন সাফল্য মেলেনি। এরপর বিস্তৃত পরিসরে ইএফডি মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ লাখ ইএফডি মেশিন এনবিআর থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। বিক্রির তথ্য ইএফডিতে সংরক্ষণ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরে রক্ষিত কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংযুক্ত হবে। ফলে বিক্রীত পণ্যের ভ্যাট এনবিআর জানতে পারবে। ইএফডিতে বিক্রির তথ্য দেওয়ার পর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা। গত বাজেটে ২৫টি খাতের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যে ২৫ ধরনের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক সেগুলো হলো আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান, ডেকোরেটর ও ক্যাটারিং সেবা প্রদানকারী, মোটরগাড়ির গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, ডকইয়ার্ড, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ছাপাখানা ও বাঁধাই সংস্থা, কমিউনিটি সেন্টার, মিষ্টির দোকান, স্বর্ণকার, রৌপ্যকার এবং স্বর্ণ পাকাকারী, আসবাবপত্রের বিক্রয়কেন্দ্র, কুরিয়ার ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস, বিউটি পার্লার, হেলথ ক্লাব ও ফিটনেস সেন্টার, কোচিং সেন্টার, সামাজিক ও খেলাধুলাবিষয়ক ক্লাব, গার্মেন্টস পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, ইলেকট্রনিক বা ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র, শপিং সেন্টার, শপিংমল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর, সুপারশপ, অন্যান্য বড়ো ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যান্ত্রিক লন্ড্রি, সিনেমা হল, সিকিউরিটি সার্ভিস। এর বাইরে এনবিআর চাইলে এ আওতা আরো বাড়বে।