বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির এখনো প্রায় চার মাস বাকি। এরই মধ্যে কোচ মামুনুর রশীদের তত্ত্বাবধানে টুর্নামেন্টটির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ দল। প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উঠলেই নিশ্চিত হবে বিশ্বকাপে খেলা। সে লক্ষ্য নিয়েই অনুশীলন করছে দল, জানালেন কোচ।
জুনিয়র এশিয়া কাপের আগের আসরেও অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল আটটি, যার সেরা তিনটি দল খেলত বিশ্বকাপে। কিন্তু এবার অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০টি, সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেই সঙ্গে সঙ্গে দল চলে যাবে বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে বাছাই হওয়া দলের সংখ্যা বাড়ায় একে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন কোচ মামুনুর রশীদ।
কোচ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিশ্বকাপে বাছাই হওয়া দলের সংখ্যা বাড়ায় সম্ভাবনা বেড়েছে আমাদের। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া আর জাপান—এই দলগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়া। সেমিফাইনাল খেলতে হলে এদের যে কোনো দুটি দলকে হারাতেই হবে আমাদের।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখনো যেহেতু গ্রুপিং হয়নি সেহেতু এখনো চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ হয়নি। তবে এটা বলব যে, সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করব এবং আশা করছি আমরা ভালোই করব।’
মওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে ৪ জানুয়ারি প্রস্তুতি শুরু করার পর থেকে খেলোয়াড়দের কৌশলগত ও টেকনিক্যাল দিকগুলো নিয়ে কাজ করছেন কোচ। পাশাপাশি তদারকিতে আছে ফিটনেসের দিকটাও। কোচ মামুন জানালেন খেলোয়াড়রাও সাড়া দিচ্ছেন ভালোভাবেই।
ফরোয়ার্ডদের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাড়তি কাজও করছেন কোচিং স্টাফরা। গত অক্টোবরে ওমানের বিপক্ষে সিরিজে আশরাফুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সবুজরা দারুণ সব পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে গোল এনে দিলেও ফিল্ড গোলে কিছুটা দুর্বলতা ছিল দলের। সেটাও ঘুচিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। কোচ মামুনের ভাষ্য, ‘ফিল্ড গোল বাড়ানোর জন্য আমরা ফরোয়ার্ডদের নিয়ে আলাদা কাজ করছি। পেনাল্টি কর্নার আমাদের শক্তির জায়গা, তার পাশাপাশি ফিল্ড গোলকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। দুটি নিয়েই বিশেষভাবে কাজ হচ্ছে।’
এশিয়া কাপের আগে দক্ষিণ কোরিয়া আর ওমানে দুটি সফর আছে বাংলাদেশের। মামুনুর রশীদের শিষ্যরা মার্চের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া যাবে। সেখানে জাতীয় দল, সেনাবাহিনী দল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় মিলিয়ে কমপক্ষে সাত-আটটি ম্যাচ খেলবে দল। এরপর একই মাসে ওমানের বিপক্ষে ফিরতি সিরিজ খেলতে ওমান যাবেন আশরাফুলরা। সিরিজটি চারজাতি হবার একটা চেষ্টা করছেন আয়োজকরা, তা না হলেও একটা টেস্ট সিরিজ অন্তত পাবে হকি দল।
এ প্রসঙ্গে কোচ জানান, সে ম্যাচগুলো খেললেই অনুশীলন পূর্ণতা পাবে দলের। বাংলাদেশ কোচের কথা, ‘মার্চের শুরুর দিকে কোরিয়া যাওয়ার একটা প্ল্যান আছে। এরপরে সে মাসেই ওমানে ফিরতি ট্যুর আছে। সবকিছু মিলিয়ে টুর্নামেন্টের আগে আরো ১৫ থেকে ২০টির মতো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। ম্যাচগুলো খেললে দল আশা করি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারবে।’