পানির অপরিকল্পিত ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর খালি হচ্ছে তা কিন্তু নয়, এর সঙ্গে দূষণের বরড়া একটি সম্পর্কও রয়েছে। পানি দূষণের হার ও কারণ যখন দুটোই বেড়েছে, তখন পানি নিয়ে ভাবনা কিন্তু আমাদের বাড়াতেই হবে। সেচ কাজে পানির ব্যবহার আমাদের দেশে প্রচুর। আমাদের দেশের চারপাশে নদী থাকায় পানির পর্যাপ্ততা ও পানির স্বাদ দুই-ই খুব বেশি। কিন্তু শুকনো মৌসুমে পানির চাহিদা পূরণের মাধ্যম একটিই; আর তা হলো ভূগর্ভস্থ পানি। প্রযুক্তির কারণে পানি না পেলেই আমরা আরো গভীর নলকূপ বসাই। এক সময় পানি পাওয়ার জন্য হাজার হাজার ফুট নিচেও আমরা পানির নলকূপ বসাতে দ্বিধা করি না। এবং যাচ্ছেতাইভাবে পানি তুলে ফেলে দেই। সেচের ব্যাপারেও এমনটা হচ্ছে। পানি ব্যবহার বা তোলার জন্য তেমন কোনো টার্গেট নেই। কোন ফসলের জন্য কী পরিমাণ পানি লাগবে তার একটি সঠিক হিসাব জানা থাকা প্রয়োজন। একটি সেচ পাম্প দিনের মধ্যে যত ইচ্ছে পানি তুলবে এটা নিয়ম হতে পারে না। অনেক সময় সেচের জন্য পাম্প থেকে জমি পর্যন্ত মাটির ড্রেন ব্যবহার করা হয়; এর ফলে ড্রেনেই অনেক পানির অপচয় হয়ে যায়। পাইপিং সিস্টেম চালু না করা গেলে এই অপচয় রোধ করা সম্ভব নয়। পানির অপচয় রোধ ও ভূগর্ভস্থ পানির যত্নে মনোযোগী হওয়ার জন্য হলেও এ বিষয়গুলো নজরে আনা প্রয়োজন। পানি জামিয়ে রাখার ব্যাপারেও কাজ করা যেতে পারে। বৃষ্টির পানি ধরে রেখে কৃষিতে ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রয়োজন। আশা করি পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন ।
সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর