ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার শেষ হলো মধ্যরাতে। গতকাল শেষ দিনে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত অবধি বিরামহীন জনসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা, ভোট প্রার্থনায় ছিলেন ব্যস্ত। শেষ দিনের পুরো সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন প্রার্থীরা। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে চষে বেড়িয়েছেন পাড়ামহল্লা, অলিগলি। মিছিল, স্ল্লোগান, মাইকিং, জনসংযোগ, কুশল বিনিময়, শো-ডাউনে নির্বাচনের পুরো আমেজ রচিত হয়। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে মগবাজার চৌরাস্তা থেকে প্রচারণা শুরু করেন। গুলশান ডিসিসি মার্কেট, বনানীসহ উত্তর ঢাকায় জনসংযোগ করেন। আর দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক হোসেন সকালে গোপীবাগের অলিগলি ঘুরে তার প্রচারণার সূচনা করেন। তার মা মরহুম সাদেক হোসেন খোকার স্ত্রী ইসমত আরা সাদেক ইসলামপুর, শাঁখারিবাজার, নবাববাড়ি, সদরঘাট, পাটুয়াটুলিসহ পুরান ঢাকার অলিগলিতে ঘুরে পুত্রের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। ইশরাকের ছোটো ভাই ইশফাস হোসেন, তার মামা-মামি, ফুপু, চাচিসহ আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীরা প্রচারণায় অংশ নেন।
তাবিথ এবং ইশরাক দুই প্রার্থীই প্রায় অভিন্ন ভাষায় দাবি করলেন, রাজধানীতে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোট যদি সুষ্ঠু হয় তবে তারাই বিজয়ী হবেন। তবে পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা বোধ করছেন তাবিথ। তিনি বলেন, ভোটের নামে কী হয় তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে ইশরাক বললেন, পোলিং এজেন্ট নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাবিথ আউয়াল বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কী পদক্ষেপ নেয়, সে দিকে দেশবাসী তাকিয়ে আছে। এ সময় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রধামন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটের নামে কী হয় তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচন কেমন হবে। এ সময় তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন রাজধানীর গোপীবাগের বাসার সামনে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ধানের শীষের গণজোয়ার এসেছে। এটা দেখে বিভিন্ন দিক থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ভোট যদি সুষ্ঠু হয় ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না ইনশাল্লাহ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্সসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ সারাদেশে জেলা কমিটি করে ঢাকায় লোক আনছে। আমি খুব শংকিত যে তারা ভোটের দিন কি করতে চাচ্ছে। গতকাল রাতে আমাদের দক্ষিণের যুবদলের সভাপতির বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। কয়েক দিন আগে আমাদের প্রচারণায় হামলায় যারা আহত হয়েছেন তাদের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অভিযান চালাচ্ছে। আমরা এখনো জানি না কি হবে। নির্বাচনের দিন দেখা যাক পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়। তিনি বলেন, আমাদের দলের সকল নেতাকর্মী মাঠে পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছেন। ইশরাক বলেন, গোপীবাগের হামলার ঘটনায় আটক আরিফ আমার ব্যক্তিগত সহকারী নয়। আমার কোনো ব্যক্তিগত সহকারী নেই।