অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা দেশের শিল্পের প্রসারে যে প্রণোদনা দেই সেটি বিশ্বের আর কোনো দেশ দেয় না। আগামী অর্থবছর থেকে প্রণোদনা দেওয়ার অর্থের আলাদা হিসাব করা হবে। তবে এই প্রণোদনা দেওয়ার ফল আমরা পাচ্ছি। রপ্তানি খাতই নয়, অন্যান্য খাতও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে এই প্রণোদনা। রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, নতুন শিল্প স্থাপন ছাড়াও বিভিন্ন খাতে সুবিধা দেওয়া হয়। আগামী বছর থেকে কী পরিমাণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সেটির হিসাব আলাদা করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম-২০২০ এর সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এতে সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ধন্যবাদ বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপো।
এবারের সম্মেলনটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে উত্সর্গ করা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনকে সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রাক্কলন অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার ২০২১ সালে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হবে। অতিদারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ২৮ শতাংশে নেমে আসবে। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে। পাঁচ বছর সময়কালে দেশের ভেতরে এবং বাইরে মোট ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আগামী পাঁচ বছরে মেগা প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শুধু অবকাঠামোই নয়, কারিগরি জ্ঞান, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়াতে উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর অর্থায়নের যে অঙ্গিকার রয়েছে সেটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ জানান, এবারের বিডিএফ সম্মেলনে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাত যেমন মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, উদ্ভাবনী অর্থায়ন, গ্রামীণ রুপান্তর ও টেকসই নগরায়ণ ও বাণিজ্য সহজিকরণের ওপর সরকারের মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে তুলে ধরা হয়।