নৌকা নাকি ধানের শীষ, ঢাকাবাসীর রায় কাল

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন চলছে জয়-পরাজয়ের বিশ্লেষণ। সবার দৃষ্টি এখন ঢাকার দিকে। দুই সিটির মেয়র পদে কারা জিতবেন? নৌকা নাকি ধানের শীষ তা জানা যাবে আগামীকাল শনিবার। ভোটে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে মূল লড়াই হবে। ভোট অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজই পৌঁছে যাবে ভোটকেন্দ্রে সব নির্বাচনি মালামাল। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্ধলক্ষাধিক সদস্য। তবু সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা রয়েছে। প্রথমবার ঢাকার ভোট ইভিএমে হলেও গোপনকক্ষে গিয়ে নিজের ভোট দিতে পারবেন কিনা—সেই সন্দেহ আর অবিশ্বাসের অন্ত নেই ভোটারদের। এসব শঙ্কা নিয়েই রাত পোহালে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই সিটির প্রায় সাড়ে ৫৪ লাখ ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

গত ১০ জানুয়ারি দুই সিটির নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে টানা ২০ দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। প্রচারণার শেষদিনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নেমে পড়েন ভোটারদের মন জয়ে। নানা প্রতিশ্রুতি আর কথামালায় ভোটারের মন জয়ের চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘদিন পর ভোটের মাঠে সমান্তরালে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল পর্যন্ত শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। পিছিয়ে ছিলেন না উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপির তাবিথ আউয়ালও। এছাড়া অন্যসব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও শেষ মুহূর্তের প্রচারে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেন। যদিও প্রচারকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘শঙ্কার’ মেঘ কাটছে না। ‘বহিরাগত সন্ত্রাসী’ ঢাকায় অবস্থান নিচ্ছে এমন অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে ‘পালটাপালটি’ অবস্থানে বড়ো দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল ইভিএমে কারচুপির শঙ্কা প্রকাশ করলেও; তা আমলে না নিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকার সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। তাছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা নিতেও দেখা যায়নি ইসির।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৯ দলের ১৩ মেয়র প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১৮টি পদে ৭৭ জন ভোটের লড়াইয়ে আছেন। দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩৩৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির ৭৫ ওয়ার্ডে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ ভোটার। মোট ১ হাজার ১৫০ কেন্দ্রের ভেতরে ঝুঁকিপূর্ণ ৭২১টি।

বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল :সিটি ভোটের দিন ঢাকা মহানগরে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কিছু যানবাহন চলতে পারবে অনুমতি সাপেক্ষে। আজ শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাস, বেবিট্যাক্সি/সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, ট্রাক, টেম্পো, অন্যান্য যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ইসি। মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত। তবে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র থাকতে হবে। এছাড়া সিটি নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টা ইঞ্জিনচালিত নৌযান বন্ধ থাকবে।

ভোট দেখবে ১০টি দূতাবাস :ঢাকার দুই সিটি ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন বিভিন্ন দেশের ৭৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধি ঢাকা সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে আমেরিকার ২৭ জন, ব্রিটিশ ১২ জন, সুইজারল্যান্ডের ছয় জন, জাপানের পাঁচ জন, নেদারল্যান্ডস ছয় জন, ডেনমার্ক তিন জন, নরওয়ে চার জন, অস্ট্রেলিয়া দুই জন, কানাডা চার জন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পাঁচ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ৭৪ জনের মধ্যে ৪৬ জন বিদেশি এবং ২৮ জন বাংলাদেশি বিদেশি কোটায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন, বিদেশি কোটায় দেশিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন না। এদিকে, বিদেশি দূতাবাসগুলোকে বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে ইসি জানিয়েছে, নীতিমালা অনুসরণ করে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ভোট দেখবেন সহস্রাধিক দেশি পর্যবেক্ষক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোট পর্যবেক্ষণে ইসির অনুমতি পেয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ১ হাজার ১৩ জন পর্যবেক্ষক। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মোহা. ইসরাইল হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ে ২২টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে আবেদনপত্র পাওয়া যায়। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উত্তর সিটি করপোরেশনে এসব সংস্থার ৫০৩ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৫৭ জন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আরো ৫৩ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।