বিদ্যাদেবীর কৃপালাভের আশায় বাণী-অর্চনার মধ্য দিয়ে মাঘের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে উদ্যাপিত হলো বিদ্যা ও ললিতকলার দেবী সরস্বতী পূজা। সনাতনধর্মীরা ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞান-দায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষ-দায়িনী এবং শক্তির আধার বিশ্বাসে সরস্বতী দেবীর আরাধনা করে থাকেন। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পূজামণ্ডপ ও গৃহআঙ্গিনা। এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা—এই ‘বীণাপানি’ দেবীর সম্মুখে পূজার সূচনা হয় বুধবার । শেষ হয় গতকাল। সরস্বতী পূজার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনে এ বছর জগন্নাথ হলে মোট ৭০টির বেশি মণ্ডপে সরস্বতীর আরাধনা হয়। গতকাল সকাল ৯টা থেকেই সেখানে ছিল শিক্ষার্থী, ভক্ত আর দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, কুয়েত মৈত্রী হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলেও আলাদা মণ্ডপে বিদ্যাদেবীর অর্চনা হয়েছে। বরাবরের মতোই জগন্নাথ হলের পুকুরের মাঝে বিশাল আকারের সরস্বতী প্রতিমা গড়ে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পূর ও চন্দন দিয়ে স্নান করানো হয় বুধবার। জগন্নাথ হল মাঠে গতকাল সকাল ৯টার দিকে শুরু বাণী অর্চনা। পুরোহিত ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল লোচনে/ বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে’ মন্ত্রপাঠ করে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। এরপর ভক্তরা দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেন। এ সময় ভক্তদের মাঝে অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। মন্ত্র পাঠ করিয়ে পুরোহিত শিশুদের হাতে কাশফুলের কলম ও রূপক দোয়াত তুলে দেন। ঐ কলম দিয়ে মাটির সরায় (পাত্র) লেখার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু করে শিশু। একেই বলা হয় ‘হাতেখড়ি’।
ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৮টায় পূজা শুরু হয়। সাড়ে ১১টায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ঢাকা মেডিক্যালের নার্সিং কলেজের উদ্যোগে ঘটা করে আয়োজন করা হয় সরস্বতী পূজার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরান ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাণী অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উত্সবমুখর পরিবেশে হয় সরস্বতী পূজা।
এছাড়া জয়কালী মন্দির রোডের রামসীতা মন্দির, ইসকন মন্দির, জজকোর্ট প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মণ্ডপ, সচিবালয় পূজা উদ্যাপন ও কল্যাণ পরিষদের মণ্ডপ, সেগুনবাগিচার মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস পূজা উদ্যাপন পরিষদের মণ্ডপ, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা), ব্যাংকার্স পূজা পরিষদ, ঠাটারীবাজার শিবমন্দির, বিহারীলাল জিউ মন্দির, রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, রাধামাধব বিগ্রহ মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাংলা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়।