মুজিববর্ষের সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা

বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে মুজিববর্ষের প্রাক্কালে স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে সত্তরের নির্বাচন:আমু

বিএনপি সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের দাবি- বিএনপি সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করে ভোট কেন্দ্র দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। বিএনপির এই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলাসহ শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দিয়েছেন দলটির নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

খোলা ট্রাকের ওপর নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ। একে একে মঞ্চে আসেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা মহাগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে ফজলে নূর তাপসই মধ্যমণি-প্রধান আকর্ষণ- মঞ্চ থেকে এমন ঘোষণাই আসছিল বার বার। আমির হোসেন আমু ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের জন্য ভোট চেয়ে বলেন, ‘আমরা যখন মুজিববর্ষ পালন করছি, তখন আমার স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে ১৯৭০ এর নির্বাচন। স্মৃতিচারণ করে আমু বলেন, ‘সেদিন তিনি (বঙ্গবন্ধু) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ওই পুরান ঢাকার খাজা পরিবারের খাজা খায়রুদ্দীনকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে। সেদিন বঙ্গবন্ধু এই ঢাকার রায় নিয়ে সারা বাংলাদেশে সংখ্যাগোরিষ্ঠতা লাভ করেছিলেন বলেই, ম্যান্ডেড আনতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেই ৭ মার্চের ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিতে পেরেছিলেন।

আমু বলেন, যেই পুরান ঢাকা একদিন বঙ্গবন্ধুকে ভোট দিয়ে বাঙালির আশা পূরণ করেছিল, আজকে সেই পুরান ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর রক্ত, বঙ্গবন্ধুর নাতি শেখ ফজলে নূর তাপসকে নৌকায় ভোট দিয়ে তিলোত্তমা ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা উপহার দেয়ার জন্য বার বার ফাঁসির মঞ্চে দাড়িয়েছে। বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু কোনও দিন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করার জন্য সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নৌকা বিজয়ের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। এই নৌকা জিতবেই। নৌকার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার জন্য প্রথম থেকেই নানা ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্থা তাদের অভিমত প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন সিটি নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। এই সকল সংস্থার মতামত দেখে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাথা খারাপ হয়েছে গেছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাদ্দীন নাছিম বলেন, সামনে মুজিববর্ষ। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নৌকায় ভোট দিতে হবে।

মুজিববর্ষের র্যালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, সচিবালয়ের সামনের সড়ক, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বঙ্গভবন ও রাজউকের সামনের সড়ক হয়ে শাপলা চত্বর গিয়ে শেষ হয়।

ঢাকা মাহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির। এদিকে সমাবেশকে সফল করতে দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট হতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করে। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে বিশাল এক মিছিল আড়াইটার দিকে সমাবেশে যোগ দেন।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিনউদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক আইনজীবী মুজিববর্ষের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।