স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে পুলিশের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলায় বিনা ওয়ারেন্টে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বগুড়া জেলা বিএনপি। এছাড়া প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলা, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বগুড়ার সাতটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের জিএম সিরাজ, সদর আসনের মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বগুড়ার পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান তাদের আসনগুলোতে হামলা মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বগুড়া-৩ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া মাছুদা মোমিন প্রতীক না পেলেও সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু হয়েছে। গত দু’সপ্তাহে গায়েবি মামলায় বিনা ওয়ারেন্টে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ রাতের বেলা তাদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা না চালানোর জন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশকে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজিত করার জন্য তার আসনে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ। তারা বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী ক্যাম্প (অফিস) ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। ধানের শীষের ব্যানার-পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে- এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। তারপরেও কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কাউকে হয়রানি করার জন্য গ্রেফতার কিংবা আটক করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, শুধু তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।