স্পোর্টস রিপোর্টার
মুস্তাফিজের কি সেঞ্চুরি হয়েছে? গতকাল বিকালে মিরপুর স্টেডিয়ামে অনেকের মুখেই ছিল এমন প্রশ্ন। দিনভর ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের হয়ে এই বাঁহাতি পেসারের বোলিং দেখে হতাশ হয়েছেন জাতীয় দলের নির্বাচকরাও। ১৯ ওভার বোলিং করে ৮৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মুস্তাফিজ। লংগার ভার্সন ক্রিকেটে এই তরুণের বোলিং নেই আগের ধার। লাইন, লেন্থও ঠিক নেই। এলোমেলো বোলিংয়ে কার্যত সাদা পোশাকে অকার্যকর হয়ে পড়েছেন এই পেসার।
মুস্তাফিজ ছাড়া টেস্ট দলের ছকটা গত বছর থেকেই তৈরি হচ্ছিল। খোদ হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোই মনে করেন, মুস্তাফিজ সাদা বল তথা সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটের বোলার। গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের একমাত্র টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ভারত সফরে দলের সঙ্গে রাখলেও একাদশে ঠাঁই হয়নি তার। এবার পাকিস্তান সফরের প্রথম টেস্টের দল থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজ। মুমিনুল হকের নেতৃত্বে গতকাল ঘোষিত ১৪ সদস্যের দল থেকে তার বাদ পড়াটা তাই অপ্রত্যাশিত নয়।
টেস্ট দলে ফিরেছেন তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। বাদ পড়ার তালিকাটাও ছোটো নয়। ভারত সফরের দলে থাকা সাদমান ইসলাম, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ বাদ পড়েছেন টেস্ট দল থেকে। চার জনই কম বেশি ইনজুরিতে রয়েছেন। আর নিরাপত্তা ঝুঁঁকির ভয়ে টেস্টেও পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মুশফিকুর রহিম।
গত বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফর থেকেই মুস্তাফিজকে টেস্টে কম ব্যবহারের পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ। ঐ বছর মার্চে ওয়েলিংটনে শেষ টেস্ট খেলেছেন তিনি। ১৪ ওভারে ৭৪ রান দিয়ে নিয়েছিলেন এক উইকেট। বিশ্বকাপের পর ডমিঙ্গো দায়িত্ব নেওয়ার পরই টেস্টের জন্য পেস আক্রমণ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। কোচের সেই তালিকায় ছিলেন না মুস্তাফিজ। তাই তো সাদা পোশাকে তাকে বসিয়ে রেখে এবাদত-রাহীদের খেলিয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি সর্বশেষ ভারত সফরে আল-আমিন হোসেনকেও টেস্টের পেস আক্রমণে যুক্ত করা হয়েছে। শুধু টেস্ট নয় ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও বল হাতে বিবর্ণ মুস্তাফিজ।
ফর্মহীনতার কারণে বাদ পড়েছেন এই তরুণ। গতকাল জানতে চাইলে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘ও তো এখন টেস্টে নিয়মিত না। আমরা মনে করেছি, ওর ঘরোয়া ক্রিকেটে আরো লংগার ভার্সন ম্যাচ খেলা উচিত। একটু সতেজ হয়ে ফিরে আসুক। আর পারফরম্যান্সও ভালো না।’
রাওয়ালপিন্ডিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে প্রথম টেস্ট। যেখানে পেসাররা সবসময় সাহায্য পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ তাই দলে রেখেছে চার পেসার। প্রধান নির্বাচক বলেছেন, সিমিং কন্ডিশন বিবেচনায় সৌম্যকেও দলে রাখা হয়েছে। মিরাজ নেই, অফস্পিনের ভার সামলাতে তরুণ নাঈম হাসানের ওপরই নির্ভর করছেন নির্বাচকরা।
তবে পাকিস্তান সফরের টেস্ট দলে সবচেয়ে বিস্ময় ছড়িয়েছে রুবেলের অন্তর্ভুক্তি। ২০১৮ সালে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ডানহাতি এই পেসার। ২৬ টেস্টে ৮০.৩৩ গড়ে ৩৩ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। গত বছর জাতীয় লিগে ৬ ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র ১৩ উইকেট। প্রধান নির্বাচক বলেছেন, তাসকিন আহমেদ ফিট না থাকায় ব্যাকআপ হিসেবে রুবেলকে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ টেস্ট দল : মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন কুমার দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী, আল আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন ও সৌম্য সরকার।