‘রাজ্য’ সামলাতে পারবেন জকোভিচ?

স্পোর্টস ডেস্ক

শেষবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেই রজার ফেদেরারকে সরিয়ে টুর্নামেন্টটির সর্বোচ্চ সাতবারের ট্রফিজয়ী হয়েছিলেন জকোভিচ। আজ রবিবার অজি ওপেনের ফাইনালে ডমিনিক থিয়েমকে হারালেই সে রেকর্ডের ব্যাপ্তিটা আরেকটু বাড়ানোর হাতছানি সার্বিয়ান এই তারকার সামনে।

তবে দুই জনের সামপ্রতিক ইতিহাস বলছে, কাজটা মোটেও সহজ হবে না এই সার্বিয়ানের। শেষ দশ গ্র্যান্ডস্ল্যাম আসরে জকোভিচ মোটে তিন ম্যাচ হারলেও দুটিই যে ছিল থিয়েমের কাছে! দুই জনের মুখোমুখি লড়াইয়েও পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রিয়ান তরুণই।

থিয়েমের ছয় জয়ের বিপরীতে জকোভিচের জিত চারবার। গ্র্যান্ডস্ল্যামে তিনবারের দেখায় থিয়েমের জয় দুটিতে। জকোভিচের বিপক্ষে গ্র্যান্ডস্ল্যামে সবচেয়ে বেশি জয়ের তালিকায় রাফায়েল নাদাল, রজার ফেদেরার ও স্টানিস্লাস ওয়াওরিঙ্কার পরেই অবস্থান থিয়েমের। তবে গ্র্যান্ডস্ল্যামে দুই জনের তিনটি দ্বৈরথই হয়েছিল লাল মাটির ফরাসি ওপেনে। অজি ওপেন তো বটেই, লাল মাটির বাইরেই দুই জনের এটি প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম দ্বৈরথ। তবে দুই জনের শেষ পাঁচ লড়াইয়ের চারটিতেই জেতা থিয়েমের কাজটাও সহজ নয়, এই মেলবোর্নে যে আবার রাজত্ব জকোভিচেরই!

থিয়েমও তেমনই মনে করছেন। ফাইনালে বহু কাঠখড় পোড়াতে হবে তাকে এমনটাই প্রত্যাশা তার, ‘তার বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে তার চেয়ে আমিই বেশি জিতেছি। কিন্তু আমি মনে করি এটা এখানে খুব বেশি একটা কাজে দেবে না। তার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা এটা। শেষ কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় সে তার সেরাটাই খেলছে। তাই ফাইনালেও সে সেটাই করবে, এটাই প্রত্যাশিত।’

প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যামের খোঁজে থাকা এই খেলোয়াড় জানালেন, জিততে হলে ঢেলে দিতে হবে নিজের সেরাটাই। থিয়েমের ভাষ্য, ‘নিজের সেরা চেষ্টাটাই আমি করতে পারি কেবল, আবারও দারুণ টেনিস খেলতে হবে আমাকে এবং অবশ্যই নিজেদের আগের ম্যাচগুলোর দিকে তাকাতে হবে আমাকে। সেখানে যা ভালো করেছিলাম সেগুলোই আবারও করে দেখাতে হবে।’

জকোভিচ আজ জিতলে চলে আসবেন র্যাংকিংয়ের চূড়ায়ও। তবে ১৫টি অজি ওপেনের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলে কখনো না হারা ‘জোকার’ও জানেন, জেতাটা সহজ হবে না তার পক্ষেও।

থিয়েমকে কঠিন প্রতিপক্ষ তো মানছেনই, একপর্যায়ে তো অন্যতম বিশ্বসেরাই আখ্যা দিয়ে দিলেন! জকোভিচ বলেন, ‘ডমিনিক আমাদের শেষ ম্যাচটায় জিতেছিল। লন্ডনের ম্যাচটা খুবই কাছাকাছি ব্যবধানে ছিল। সে রাফার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে, আমি দেখেছিলাম। সে অন্যতম বিশ্বসেরা খেলোয়াড়। যোগ্য হিসেবেই এখানে এসেছে সে। হার্ড কোর্টেও সে বেশ উন্নতি করেছে কারণ তার খেলাটা ধীরগতির কোর্টেই বেশি মানায়।’

আগের দুই গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনালে নাদালের কাছে হেরেছিলেন থিয়েম। সে প্রতিশোধটা শেষ ম্যাচেই তুলেছেন তিনি। ফলে আজ রবিবারের ফাইনালে তাই প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যামের পাশাপাশি আরেকটা কীর্তিও হাতছানি দেবে তাকে। আজ তাকে হারালে ওয়াওরিঙ্কার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নাদাল ও জকোভিচকে হারানো খেলোয়াড়ও বনে যাবেন তিনি।এতো অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত থিয়েমের সামনে নিজের অজি ওপেন শিরোপা ধরে রাখতে পারবেন তো জকোভিচ?