প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল-সিলেকশন গ্রেড গত দেড় দশক ধরিয়া ঝুলিয়া রহিয়াছে। প্রায় ৬ হাজার শিক্ষক ইহার ভুক্তভোগী। তাহারা বত্সরের পর বত্সর আন্দোলন করিয়াছেন। আদালতের শরণাপন্ন হইয়াছেন। আদালত তাহাদের পক্ষে রায়ও দিয়াছে। তাহার পরও ইহার কোনো সমাধান হয় নাই। যেইখানে সরকারের নানা বিভাগে পদ না থাকিলেও পদোন্নতি দেওয়া হইয়াছে, সেইখানে মাধ্যমিক শিক্ষকদের এই দাবি কেন মানিয়া নেওয়া হইবে না তাহা বোধগম্য নহে। এই জটিলতার কারণেও শত শত প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক উপপরিচালক পদগুলি দিনের পর দিন শূন্য থাকিতেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের পরও তাহাদের পদোন্নতি ও পদবিন্যাস ঝুলিয়া আছে।

উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯-এর ৭/২ এবং ৭/৯ ধারা অনুসারে যোগদান হইতে শিক্ষকদের চাকুরীকাল গণনা করিয়া চার বত্সর পূর্তিতে সিনিয়র গ্রেড, আট বত্সর পূর্তিতে প্রথম টাইমস্কেল এবং ১২ বত্সর পূর্তিতে দ্বিতীয় টাইমস্কেল বিধিসম্মত ছিল। ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল প্রদানের নিয়ম বিলোপ সাধন করা হয়। ইহার পর হইতে কেহ আর সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল দাবি করিতে পারেন না। কেননা, ইহা জাতীয়ভাবে প্রযোজ্য সকলের জন্যই একটি কার্যকরী বিধিবিধান; কিন্তু যাহারা ক্ষুব্ধ ও আন্দোলন করিতেছেন তাহারা টাইমস্কেল পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন ২০১৩/২০১৪ সালে। ২০১২ সালে সরকার এক গেজেট জারি করিয়া সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেন এবং পদ অনুযায়ী তাহাদের দুইটি টাইমস্কেল ও একটি সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার কথা; কিন্তু তাহারা আজ অবধি সেই সুবিধা হইতে বঞ্চিত, যাহা লইয়া ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হইয়াছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরিয়া বিদ্যমান থাকা শুভ নহে। কেননা, শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের ভিত্তি তৈরি হয় এই সময়ে। এইজন্য এই স্তরের শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা থাকিলে তাহার নেতিবাচক প্রভাব কোনো না কোনোভাবে এই স্তরের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার উপর পড়িতে বাধ্য। অতএব, দীর্ঘদিন ধরিয়া ঝুলিয়া থাকা এই সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি। অনেকে মনে করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করিলেই টাইমস্কেল মঞ্জুরি আদেশ জারি করিতে পারে, যেহেতু ইহা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ জারি করিবার পূর্বের ঘটনা; কিন্তু শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়হীনতা ও ক্ষেত্রবিশেষে গাফিলতির কারণে একটি সমস্যা বহুদিন ধরিয়া বজায় রহিয়াছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহল ও কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মনোভাব পোষণ ও উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে।