চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প ব্যয় ৯৮৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি!

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডারজুরী পানি শোধনাগার প্রকল্পের ব্যয় দুই দফায় বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রথম দফায় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মাহাবুব আলম ইত্তেফাককে বলেন,‘আমরা প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শুরু করতে পারিনি। ঠিকাদার নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, কাস্টমস ডিউটি ও নতুন সংযোগ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। এখন ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১১ সালের ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্প এলাকার জায়গার দাম ধরা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় জায়গার দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। ডিপিপি পরিবর্তন করায় প্রকল্পের পরিধিও বেড়েছে। ফলে ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে।’

কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীরে কর্ণফুলি উপজেলা, বোয়ালখালী ও পটিয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব এলাকায় নদীর তীর ঘেঁষে ছোটো-বড়ো অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। এসব বিষয় চিন্তা করে চট্টগ্রাম ওয়াসা বোয়ালখালীর ভান্ডারজুরী এলাকায় দৈনিক ৬ কোটি লিটার উত্পাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই পানি  শোধনাগার প্রকল্পটি নির্মাণ করছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সাল থেকে বাড়িয়ে ২০২৩ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ পানি শিল্প-কারখানায় ও বাকি ২৫ শতাংশ আবাসিক খাতে সরবরাহ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পটিয়া ও বোয়ালখালীতে ১০ হাজার আবাসিক সংযোগ দেওয়া হবে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০১১ সালের প্রস্তাবনায় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। পরে ৩০০ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৬ কোটি ধরা হয়। এখন আবার ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। কোরিয়ান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। গত ২০১৬ সালে ৫ জানুয়ারি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। কিন্তু মাঝখানে নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হয়নি। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড নামে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রকল্প নির্মাণের কাজ পেয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দৈনিক ৬ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, কনভয়েন্স, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন এবং দুটি রিজার্ভার নির্মাণ। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে শোধনাগার নির্মাণের জন্য লাগবে প্রায় ৪১ একর জায়গা। বাকি জায়গা রিজার্ভার ও পাইপলাইন বসাতে ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলি উপজেলা, আনোয়ারার আংশিক এলাকা, পটিয়া ও বোয়ালখালীর কর্ণফুলি নদীর তীরবর্তী এলাকায় শিল্পায়নের বিকাশ ঘটছে। শিল্প-কারখানা নির্মাণের জন্য অনেকেই জমি কিনে রেখেছে। কেবল বিশুদ্ধ পানি ও গ্যাস সমস্যার কারণে এখনো তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। এখানে রয়েছে কাফকো, সিইউএফএল, কোরিয়ান ইপিজেড। তারা বাইরে থেকে বিশুদ্ধ পানি এনে উত্পাদন কাজে ব্যবহার করছে। নতুন নতুন আবাসিক এলাকা হচ্ছে। বর্তমানে জুলধা, শিকলবাহা ও কর্ণফুলি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপ বসিয়েও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয় চিন্তা করে চট্টগ্রাম ওয়াসা ভান্ডারজুরী প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন ইত্তেফাককে বলেন,‘প্রথমে যে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছিল পরবর্তীতে বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করতে বেশ কিছু আইটেম পরিবর্তন করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের মূল্যও বেড়েছে। বোয়ালখালী ও পটিয়া পৌরসভা এলাকাবাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে কিছু আবাসিক সংযোগ দেওয়া হবে।’