প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আমি আশা করি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের দুই মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং আতিকুল ইসলাম ভোটে বিজয়ী হবেন। এই বিজয়ের পরে ঢাকাবাসীদের জন্য আমরা উন্নত এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইমাত্র আমি আমার ভোট দিয়েছি এবং মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট দিয়েছি এবং কাউন্সিলর পদে (রফিকুল ইসলাম) বাবু ও শিরিনকে (গাফফার) ভোট দিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, নগরীর আরো উন্নয়নে এবং বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য নগরবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করবে।’ ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে বিজয়ের পরে আমরা এসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টায় ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে পৌঁছেন এবং প্রথম ভোটার হিসেবে কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় ২৪১ নম্বর কক্ষে গিয়ে ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদান জনগণের অধিকার এবং এটি সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারাদেশে ভোট গ্রহণের আয়োজন করতে পারবে এতে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ তাদের ভোটাধিকার খর্ব করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাগুলোকে বারবার সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রত্যেক ভোটার নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
মিশনে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগের সমালোচনা
ঢাকার কয়েকটি বিদেশি মিশন সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার তীব্র সমালোচনা করে একে গর্হিত কাজ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি নাগরিক এখানকার বিদেশি দূতাবাস এবং হাইকমিশনগুলোতে কাজ করছেন। এই মিশনগুলো তাদের (বাংলাদেশি) ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে একটি গর্হিত কাজ করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কীভাবে বিদেশি পর্যবেক্ষক হয়? তারা তাদের মিশনে কাজ করছেন। মিশন তাদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠাতে পারে না এবং তারা সঠিক কাজ করেননি।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ঐ সব মিশনে অনেক বৈরী মানুষ কাজ করছেন। আমি তাদেরকে চিনি। এদের কারো বাবা ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আবার এদের মধ্যে অনেকের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যেই কেউ কেউ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও মা-বোনের সম্ভ্রমহানী এবং এই সব জঘন্য কাজে পাকিস্তানিদের দোসরদের সহযোগিতা করেন।’
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অতীত ইতিহাস সুখকর নয়, তাই তারা উদ্বেগ প্রকাশ করতেই পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশে নির্বাচনের নামে অতীতে হ্যাঁ-না ভোট, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং মাগুরা ও ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু, আমরা ঐ পরিস্থিতি থেকে ভোট প্রদানের পদ্ধতিকে বের করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’
বিএনপির বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসী, মাস্তান ও জঙ্গিদের জড়ো করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, যখন কোনো দল জনগণের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, তখন তারা ভিন্ন পথ বেছে নেয়। তিনি আরো বলেন, ‘এটাই বিএনপির আসল চরিত্র।’
জনগণের আস্থাই যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান শক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। এছাড়াও আরো একবার মিলিয়ে মোট চারবার ক্ষমতায় এসেছে। ইভিএম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ডিজিটাল পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সবাই অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই।