করোনা ভাইরাস আতঙ্ক

বিশেষ ফ্লাইটে উহান থেকে ফিরল ৩১২ বাংলাদেশি

চীনের উহান নগরী থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ফিরলেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। দেশে ফিরিয়ে আনা এসব বাংলাদেশির মধ্যে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত আট জনকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৩০৪ জনকে রাখা হয়েছে উত্তরার আশকোনা হজ ক্যাম্পে। উহান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তারা হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ঢাকায় পৌঁছলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে এখনই তারা সশরীরে দেখা করতে পারছেন না। তবে মোবাইল ফোনে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা।

গতকাল দুপুরে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সবাইকে পরীক্ষা করা হয়। তারপর বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের গেট দিয়ে বের করার ব্যবস্থা করে সিভিল এভিয়েশন। এর আগে বিআরটিসির আটটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স এনে রাখা হয়। যাত্রীদের মালামাল নেওয়ার জন্য আসে চারটি ট্রাক। পরে ওই সব পরিবহনে তাদের হজ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। এদিকে, করোনা ভাইরাসে শুধু চীনেই এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ২৫৯ জন। গত সপ্তাহে চীনের গুয়াংজু নগরী থেকে শরীরে জ্বর নিয়ে ফেরত আসা এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখার পর গতকাল তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে উহান থেকে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ২৯৭ জন পূর্ণ বয়স্ক, ১২ জনের বয়স এক বছরের ওপরে এবং তিন জনের বয়স এক বছরের নিচে। প্রথমে ৩৬১ জনের আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩১৬ জন আসবে বলে ঠিক হয়। এই ৩১৬ জনের মধ্যে বিমানবন্দরে আসার পর চার জন আসেনি। সেখানে থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে যখন আসে তখন ওই চার জনের গায়ে জ্বর ধরা পড়ে। পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের বলা হয়েছে এই ফ্লাইটে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে যাওয়া ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, দেশে আসা আট জনের মধ্যে তিন জনের ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো জ্বর আছে। তবে তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে এখনই সন্দেহ করা হচ্ছে না। যাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক জন নার্সও আছেন। বিমানবন্দরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহারিয়ার সাজ্জাদ ইত্তেফাককে বলেন, আট জনের মধ্যে তিন জনের শরীরে ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বর রয়েছে। বাকি পাঁচ জনের সর্দি-কাশি। এদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বাকিদের নেওয়া হয়েছে আশকোনো হজ ক্যাম্পে। এদের হজ ক্যাম্পে রেখে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিমানবন্দরে অপেক্ষায় স্বজনরা

উহান থেকে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশিদের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে ছিলেন স্বজনরা। তাদের কারো সন্তান, কারো স্ত্রী বা ভাই-বোন এসেছেন ফ্লাইটে। স্বজনরা বলেন, যদি তাদের সশরীরে সাক্ষাত্ না-ও পাই, তাও যেন ওরা পর্যবেক্ষণে থাকুক। এটা ওদের জন্য, দেশের ও জনগণের জন্য মঙ্গলজনক। কখনো কখনো আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেয়ে নিরাপত্তা জরুরি। কেউ কেউ বলেন, চীন থেকে ওদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাতেই আমরা খুশি।