যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রক্ষায় পাশে দাঁড়িয়েছেন তার দল রিপাবলিকান পার্টির সিনেটররা। আগামী বুধবার সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন অভিযোগের ওপর (আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট) ভোটাভুটি হবে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে ট্রাম্প সহজেই খালাস পাবেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে। কারণ কোনো প্রেসিডেন্টকে সিনেটের বিচারে অভিযুক্ত করে অপসারিত করতে ৬৭ সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ১০০ সিনেটরের মধ্যে রিপাবলিকান ৫৩ জন, ডেমোক্র্যাটদের আছে ৪৫ আর দুই জন সিনেটর হলেন স্বতন্ত্র। ইতিমধ্যেই অভিশংসন বিচার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে সিনেটের বিচারে নতুন করে সাক্ষী আনার প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটররা। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে সাক্ষী হিসেবে আনার জন্য জোর চেষ্টা ছিল ডেমোক্র্যাটদের। সম্প্রতি বোল্টনের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে তিনি বলেছেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন তদন্তে সহযোগিতা করার আগে পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা আটকে রাখতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বোল্টন সিনেটে বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বলে মনে করছিলেন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
কিন্তু শুক্রবার সিনেটের বিচারে নতুন সাক্ষী আনার প্রস্তাবটি আটকে দেন রিপাবলিকানরা। এই প্রস্তাব পাশে ডেমোক্র্যাটদের চার জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন দরকার ছিল। কিন্তু দুই জন রিপাবলিকান সিনেটর সাক্ষী আনার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি ৫১-৪৯ ভোটে বাতিল হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে সিনেটের বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার রাস্তা খুলে গেছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বিচারের পরবর্তী কর্মসূচির ওপর একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সিনেট। আগামীকাল সোমবার ট্রাম্পের আইনজীবী টিম এবং হাউস প্রসিকিউটররা তাদের সমাপনী যুক্তিতর্ক পেশ করবেন। এরপর প্রত্যেক সিনেটরকে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট করে সময় দেওয়া হবে।
আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্টর ওপর আগামী বুধবার সিনেটে ভোটাভুটি হবে। সেখানে ট্রাম্পের অব্যাহতি প্রায় নিশ্চিত। এই ভোটাভুটির এক দিন আগে ক্যাপিটল হিলে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেবেন ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হন ট্রাম্প। এর আগে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও অ্যান্ড্রু জনসন অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেউই ক্ষমতা থেকে অপসারিত হননি। এর কারণ কোনো প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে হলে তাকে সিনেটে দোষী সাব্যস্ত হতে হয়।