ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঋণের সুদহারে সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করতে চলতি মাস ফেব্রুয়ারি থেকেই ৬ শতাংশ সুদে আমানত গ্রহণ করছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। গতকাল রবিবার গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিদল এ তথ্য জানিয়েছেন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
জানা গেছে, গতকাল রবিবার থেকেই ব্যাংক আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করেছেন তারা। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা চেয়েছেন এমডিরা। এছাড়া এসএমই ঋণ সিঙ্গেল ডিজিটের বাইরে রাখার আবেদন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে লিখিত সুপারিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি রাতে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকে এসব বিষয়ে একমত হয়েছেন। রাজধানীর গুলশানে ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঐ বৈঠকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো ব্যাংক ৬ শতাংশ সুদে আমানত নিল আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৭ শতাংশে আমানত নিল, এতে বাজারে অসমতা সৃষ্টি হবে। আমরা ধাপে ধাপে আমানতের সুদহার কমাতে শুরু করেছি। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সরকারের আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে। আগামী এপ্রিল থেকে ঋণের সুদহার কমাতেই এখন থেকে আমানতের সুদহার কমানোর বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের সুদহার নামাতে ব্যাংকারদের দাবি অনুযায়ী সরকারের আমানতের সুদহার নির্দিষ্ট করে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেওয়ার পর আমানতকারীদের সবাই যাতে সরকারি ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে না পড়েন, তা ঠেকাতে বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটে মুনাফা ৫০ পয়সা বেশি করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখলে সর্বোচ্চ সুদ পাবে ৬ শতাংশ। আর এ অর্থ যদি সরকারি ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখে তাহলে সর্বোচ্চ সুদ পাবে সাড়ে ৫ শতাংশ। অর্থাত্ বেসরকারি ব্যাংকে রাখলে ৫০ পয়সা বেশি সুদ পাবে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনতে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বিএবি এবং এবিবি বৈঠক করে। উভয় পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে সব ধরনের ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হবে। আর সাধারণ জনগণকে আমানত বিপরীতে ৬ শতাংশের বেশি সুদ দেবে না। তবে ক্রেডিট কার্ডে সুদহার বেশি হবে। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ১ এপ্রিল থেকে।