মিরপুরে ইতিহাস গড়লেন তামিম

 ‘এক ওভার খেললে সাড়ে ৩০০ হতো’

 জান-ই-আলম

সোহরাওয়ার্দী শুভর ওভারের একটি বল তখনো বাকি। দ্বিতীয় বলের পর পঞ্চম বলেও ছক্কা মারা তামিম ইকবাল তখন আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে স্ট্রাইকে ফিরছিলেন। ঠিক তখনই ডাগআউটে থাকা পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক মুমিনুল হক দুই হাত তুলে ইশারা করেন ফিরে আসতে। মুমিনুল বুঝতে পারেননি এক বল বাকি আছে ওভারের। দূর থেকে তামিমও বোঝাতে পারেননি ওভার শেষ হয়নি। তামিম দাঁঁড়িয়ে গেলে অধিনায়ক আবার ফিরে আসার সংকেত দেন।

অগত্যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করতে হয় তামিম-ইয়াসির আলীকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৩৪ রানেই থামতে হয় তামিমকে। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে অনেক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি। মাঠে প্রতিপক্ষ মধ্যাঞ্চলের খেলোয়াড়, আম্পায়ারদের অভিনন্দনের পর ড্রেসিংরুমের সামনে সতীর্থদের গার্ড অনারও পেলেন তামিম।

ড্রেসিংরুমে ঢোকার মুখে সঙ্গী ইয়াসির আলীকে এই বাঁহাতি বলছিলেন, ‘আর এক ওভার খেললে সাড়ে ৩০০ হতো।’ সত্যিই তাই, দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পরই ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন তামিম। দ্রুতই রকিবুল হাসানের ৩১৩ রানের রেকর্ড টপকে যান। গড়েন নতুন রেকর্ড।

জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ, নির্বাচকরা, বিসিবির পরিচালক আকরাম খান, কর্মকর্তারা সাক্ষী হয়েছেন তামিমের গড়া নতুন রেকর্ডের। ইতিহাস গড়ার মাহেন্দ্রক্ষণেও অতি উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি তার মধ্যে। ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ব্যাট তুলেছেন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। লম্বা উদযাপনও হয়নি। সাধারণত সেঞ্চুরি করলেই শূন্যে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ছুড়েন তামিম, ব্যাট ফেলে দেন, দৌড়ান। কিন্তু গতকাল ইতিহাস গড়েও পরিমিত উদযাপন তার।

১৩ বছর অক্ষত থাকা রকিবুলের রেকর্ডটা ভাঙেন সিঙ্গেল নিয়ে। তখনই অবশ্য দ্রুতই ব্যাট তুলেছেন। রেকর্ডটা জানাই ছিল তামিমের। ড্রিংকস ব্রেকে দ্বাদশ খেলোয়াড়কে দিয়ে পূর্বাঞ্চল রেকর্ডটার খবর পাঠিয়েছিল এই বাঁহাতিকে। নির্বিঘ্নে যেন রেকর্ডটা ভেঙে আসেন সেই বার্তা পাঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তামিমও ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই ব্যাটিং করেছেন।     

ট্রিপল সেঞ্চুরির চিন্তা কখনোই করেননি তামিম। ৫৮৫ মিনিট ব্যাটিং করে ৪২৬ বলে অপরাজিত ৩৩৪ রান করেছেন। যেখানে ৪২টি চার ও ৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। গতকাল দিন শেষে নিজের অর্জন নিয়ে তামিম বলেছেন, ‘অবশ্যই এটা দারুণ অনুভূতি। ৩০০ করা, সত্যি কথা আমি কোনোদিন চিন্তা করিনি ৩০০ করার। স্বপ্ন অবশ্যই থাকে। এ ম্যাচে হয়ে যাবে সেটা কখনো ভাবিনি। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেই জিনিসটা সেটা হলো আমি কীভাবে ব্যাটিং করেছি। এটা না যে আমি কত রান করেছি বা আমি ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছি। সব থেকে বেশি স্বস্তি ছিল যেভাবে আমি ব্যাটিং করেছি। খুশি এবং আশা করি আমি এভাবেই খেলে যেতে পারব।’

উইকেট ভালো ছিল, মধ্যাঞ্চলের বোলাররাও তামিমকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি। বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। উইকেটে বল সেভাবে ঘুরছিল না, বাড়তি কিছুই হচ্ছিল না। তো আমার কাছে মনে হয়েছে আমি নিজেকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করেছি। ৩০০ রান করার পর আমি সুযোগ নিয়েছি।’

ট্রিপল সেঞ্চুরির ভাবনাটাও এসেছে ২৮০ রান করার পর। তামিম বলেছেন, ‘সত্যি ২৬০-৭০ হওয়ার পরও কিন্তু আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম না। ২৮০ টাচ করার পর আমি এটা নিয়ে চিন্তা করা শুরু করেছি।’

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ

রান        খেলোয়াড়                দল             ভেন্যু             সাল

৩৩৪*    তামিম ইকবাল          পূর্বাঞ্চল       মিরপুর           ২০২০

৩১৩       রকিবুল হাসান           বরিশাল       ফতুল্লা            ২০০৭

২৯৫       নাসির হোসেন          রংপুর          চট্টগ্রাম           ২০১৭

২৮৯       মার্শাল আইয়ুব          মধ্যাঞ্চল      বগুড়া            ২০১৭

২৮২       মোসাদ্দেক হোসেন     বরিশাল       বিকেএসপি     ২০১৫