ঢাকা বিভাগীয় রেল প্রকৌশল বিভাগের ধীরাশ্রম ও মীরের বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ১২ জন অস্থায়ী গেট কিপার ১৮ মাস যাবত্ বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা বিভাগীয় রেল প্রকৌশল বিভাগের অধীনে গাজীপুরের ধীরাশ্রম ও মীরের বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন গেট কিপার রয়েছেন। অস্থায়ী নিয়োগের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু ‘বরাদ্দ নেই’ অজুহাতে ২০১৭ সালের মে মাস থেকে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তারা সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। টাকার অভাবে অনেকের ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। গেট কিপাররা বিষয়টি সমাধানে বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি সাক্ষাত্ করেন না। বেতনের কথা বলতে গেলে ধমক ও গালমন্দ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মীরেরবাজার লেভেল ক্রসিংয়ের গেট কিপার মানিক হোসেন জানান, স্ত্রী ছেলেমেয়ে এবং বাবা-মাসহ তার পরিবারের সদস্য ৬ জন। কেবল চাকরির আয়েই সংসার চলে। মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ও ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বেতন না পাওয়ায় ১৮ মাসে ৮০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে। তারমধ্যে ৩০ হাজার সুদে নেয়া। প্রতিমাসে সুদ দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। কবে বেতন পাবেন, তাও বলছেন না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঋণের চাপে ও ভবিষ্যত্ অনিশ্চয়তায় তিনি দিশেহারা। তার মতো অন্যদেরও প্রায় একই অবস্থা।
ধীরাশ্রমের গেট কিপার মামুন মিয়া বলেন, দুই মেয়ে সন্তানসহ তার পরিবারে ৭ জন সদস্য। সংসার চালাতে গিয়ে অনেক টাকা সুদে ঋণ নিয়েছেন। বাধ্য হয়ে স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে কোনোরকমে সংসারটা টিকিয়ে রেখেছেন।
ঢাকা রেল প্রকৌশল বিভাগের টঙ্গী জোনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ধীরাশ্রম ও মীরের বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ১২ গেট কিপারের বেতন সড়ক ও জনপথ বিভাগ দেয়। বেতনের টাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ অগ্রিম রেলপথ বিভাগকে দিয়ে থাকে। কিন্তু গত অর্থ বছরে বরাদ্দ শেষ হওয়ার পর বার বার চিঠি দেওয়ার পরও নতুন করে টাকা বরাদ্দ না দেওয়ায় গেট কিপারদের বেতন বন্ধ রয়েছে।