হরিরামপুর প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে মিলছে না প্রাণীর সঠিক চিকিত্সা

জেলার হরিরামপুর প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গবাদী পশুর কাঙ্খিত চিকিত্সা মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ডাক্তাররা সময়মত হাসপাতালে আসেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল থেকে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা গেলেও ঔষধ বাইরের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে খামারীদের। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি তারা যথাসম্ভব সেবা প্রদান করে আসছেন।

এই এলাকায় গরুর ক্ষুরারোগ, পায়ে-ঘা, ডাইমাটাইটিস, ছাগলের পিপিআর ভাইরাস, হাস-মুরগীর রাণীক্ষেত, ঠান্ডা-জ্বর রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ হয়ে থাকে। অথচ পশুপাখির রোগ নির্ণয়ের জন্য নেই কোনো যন্ত্র। কৃমি নির্ণয়ের জন্য একটি মাইক্রোস্কোপ থাকলেও সেটি সম্প্রতি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই পশুর রোগ পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক প্রাণীরোগ গবেষাণাকেন্দ্র বা জেলা  প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয় খামারীদের।

গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, কয়েকজন খামারী তাদের ছাগল, ভেড়া, কবুতর, মুরগী নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হাসপাতালের সামনে। ভেটেনারি সার্জন ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। ওই দুজনের অবর্তমানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরজু মিয়া পশুপাখির চিকিত্সা সেবা দিচ্ছিলেন। ওই দিন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বেলা ১০টা ৪৮ মিনিটে অফিসে আসেন এবং চিকিত্সা সেবা প্রদান শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ১ জন প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা, ১ জন ভেটেনারি সার্জন, ১ জন ইউএলও, ৩ জন ডিএফএ,  ১ জন কম্পাউন্ডার, ১ জন এফ এ (এ/আই), ২ জন অফিস সহকারী, ১ জন ড্রেসার ও ১৩ জন ওয়ার্ডকর্মীসহ মোট ২৪ জন কর্মরত রয়েছেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই হাসপাতালে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকার ঔষধ আসে। হাসপাতালে গড়ে প্রতি দিন ৫০-৬০টি পশুকে চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হয়। এ বছর পশুর কৃত্রিম প্রজনন হয়েছে ৯২৫টি। টিকা প্রদান করা হয়েছে ১ হাজার ৫৮০টি। নভেম্বর মাসে হাস-মুরগীকে টিকা প্রদান করা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০টি।

হাসপাতালে আসা এক খামারী জানান, তার ছাগলের ঠান্ডা জ্বর হয়েছে। কয়েকদিন যাবত্ কিছু খেতে পারছে না, তাই গতকাল অসুস্থ ছাগলটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমাকে বলা হয়েছে আজকে আসার জন্য, তাই আজ আবার ছাগলটিকে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার ঔষধ লিখে দিয়েছেন, বাইরে থেকে তা কিনে নিতে হবে। পাটগ্রামের রুবেল জানান, তার কবুতরটি কয়েকদিন ধরে সাদা পায়খানা করছে। কবুতরটিকে ডাক্তার দেখেছেন তবে কোনো ঔষধ দেননি। রুবেল বলেন, হাসপাতাল থেকে কোনো ঔষধ আমি এ পর্যন্ত পাইনি।

হাসপাতালের ভেটেনারি সার্জন মোঃ আতিকুর রহমান অফিসে দেরিতে আসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের কাজ আসলে অফিসকেন্দ্রীক না। মূলত মাঠ পর্যায়ে আমরা দিনের অনেকটা সময় কাজ করে থাকি। তাই অনেকসময় খামারীরা আমাদের অফিসে পাননা। আর ঔষধ আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু দেওয়ার চেষ্টা করি।

অন্যদিকে হরিরামপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা অফিসে দেরি আসা প্রসঙ্গে বলেন, শহর থেকে এখানে আসি, এতে অনেক সময় অফিসে আসতে দেরি হয়। আর কেউ যদি অফিসে না আসে তাহলে সে অবশ্যই আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়ে যায়। আমাদের প্রতিবছর যে পরিমাণ ঔষধ বরাদ্দ থাকে তাতে আসলে সবাইকে ঔষধ দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও যতটুকু পারি ততটুকু দেওয়ার চেষ্টা করি।