গত রবিবার সন্ধ্যায় আশির দশকের লিটল ম্যাগাজিন ‘সাহিত্যপত্র’ সম্পাদক বড়োভাইসম হাসান সাঈদের ফোন পেলাম। বহুদিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। আকস্মিক তাঁর ফোন পেয়ে উত্ফুল্ল হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু টের পেলাম আমাকে শুভেচ্ছা জানালেও তাঁর কণ্ঠ ছিল ভারী। বললেন, একটা দুঃসংবাদ জানানোর জন্য তিনি আমাকে ফোন করেছেন। আমাদের সবার প্রিয় তোফাজ্জল ভাই কিছুক্ষণ আগে মরলোক ছেড়ে গেলেন। তোফাজ্জল ভাই মানে শেখ তোফাজ্জল হোসেন, একসময় দৈনিক ইত্তেফাকে ‘তোফা’ নামে কার্টুন আঁকতেন। ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় কার্টুন আঁকতেন DEVILSON নামে, খবর পড়তেন বাংলাদেশ বেতারে। সত্তর ও আশির দশক জুড়ে চালাতেন ‘অনুশীলন সংঘ’ নামে সাহিত্য আসর। কার্টুন এঁকে পাকিস্তানি আমলে জেলে গিয়েছিলেন। সেসময় জেলখানায় বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পেয়েছিলেন। এটা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম গর্বের ব্যাপার।
হাসান সাঈদ ভাই যখন ফোন করেছিলেন, আমি তখন শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের সঙ্গে ছিলাম। ওকেও জানালাম খবরটা। আমীরুল গত বছর কয়েক ধরে তোফাজ্জল ভাইয়ের কার্যকর খোঁজখবর রাখছিল। তোফাজ্জল ভাই আমাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কয়েকদিন বলেছিলেনও সে-কথা। বিষণ্ন মনে আমীরুল চ্যানেল আইয়ে এই প্রিয়জনের মৃত্যুসংবাদ প্রচারের ব্যবস্থা করল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পেশাগত জীবন শেষ করার পর তোফজ্জল ভাই বেশ কয়েক বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন প্রধানত স্বাস্থ্যগত কারণে। মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হতো আমার। যোগাযোগ হতো ফেসবুকেও। বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর স্ত্রীও খুব অসুস্থ ছিলেন। ফলে শেষজীবনটা বেশ কষ্টকর ছিল তাঁর।
তোফাজ্জল ভাইকে নিয়ে দীর্ঘ একটা লেখা তৈরির কথা ভাবছিলাম অনেক দিন ধরে। সময়ের চোরা টানে এতদিনেও তা হয়ে ওঠেনি। আমার সাহিত্যিকজীবনের শুরুতে তাঁর নির্দেশনা ছিল বিশেষ গুরুত্বের। সেসব নিয়ে আমি সময় করে নিশ্চয় লিখব। এখন কেবল তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে রাখলাম!