স্যামসাংয়ের লভাংশ কমেছে ৩৮%

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে নির্ধারিত মুনাফা কমেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। এ জন্য তারা পণ্যের চাহিদা ও এতে ব্যবহূত চিপগুলোর মূল্যকে দায়ী করছে।

প্রতিষ্ঠানটির অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুনাফা ছিল ৫.২৩ ট্রিলিয়ন ওএন (৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এক বছর আগের থেকে এ মুনাফার পরিমান ৩৮ শতাংশ কম বলে প্রতিষ্ঠানটি একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে।

বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, এক বছর আগের তুলনায় মুনফার পরিমাণ কমার অন্যতম কারণ হলো ক্রমাগতভাবে মেমোরি চিপের দাম কমতে থাকা ও ডিসপ্লে প্যানেলের দূর্বলতা। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স হলো স্যামসাং গ্রুপের প্রধান সহায়ক প্রতিষ্ঠান।

দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বাড়তে থাকলেও ২০১৯ সালে বেশ কয়েকটি জটিলতায় পড়ে। সরবরাহ ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বিশ্বের মেমরি চিপ মার্কেট গত বছর বেশ মুনাফার মুখ দেখেছে।

প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। ক্রেতারা স্মার্টফোন কেনার আগে নতুন মডেলের জন্য অপেক্ষায় থাকছে।

স্যামসাং বলছে, বিক্রি কমার অন্যতম কারণ হলো মেমোরি চিপ। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক মার্কেটে মন্দাভাব অনুভব করছে। বর্তমানে তাদের মুনাফা কমেছে ৩০ শতাংশের মতো। এতে তাদের মুনাফা কমেছে ৭.২ ট্রিলিয়ন ওএন। চতুর্থ প্রান্তিকে বিক্রির পরিমান হলো ৫৯.৯ ট্রিলিয়ন ওএন।

২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় তাদের মোট মুনাফা হ্রাস পেয়েছে ২১.৭ ট্রিলিয়ন ওএন, ৫১ শতাংশ। স্যামসাংয়ের শেয়ারও কমেছে ৩.২ শতাংশ।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধতে স্যামসাং অনেক চাপে পড়েছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কুটনৈকি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। গত জুলাই মাসে জাপানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

যুক্ত হলো ফাইভজি

এইএইচএস মার্কেটের সিনিয়র বিশ্লেষক জেরিট স্নিম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল ব্যবসায় মধ্যবাজেটের ফোন স্যামসাং এ সিরিজ হ্যান্ডসেট কয়েক কোয়টার ধরে তাদের মুনাফা হ্রাস কমাতে ভূমিকা রেখেছে। প্রিমিয়াম ডিভাইস গ্যালাক্সি নোট যা চতুর্থ প্রান্তিকে ব্যপকভাবে পাওয়া যায়। এ মডেলটি অ্যাপলেরর আইফোন ১১ ও আইফোন ১১প্রোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বলে জানিয়েছে স্যামসাং।  স্নিম্যান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বাজারে থাকা অ্যাপল ফোনের কারণে স্যামসাংয়ের উপর প্রভাব পড়বে।

চলতি বছরে স্যামসাং তাদের হ্যান্ডসেটগুলোকে উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে বাজারে উপস্থাপন করবে। এ বছর তারা মুনাফা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে। এমনকি তারা ফাইভজি প্রযুক্তির ফোন নিয়েও প্রতিযোগীতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

২০১৯ সালে সুপার ফেস ফাইভজি প্রযুক্তির ফোনের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউনিট বিশ্বের বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করা হয়েছে। স্যামসাংয়ের মার্কেট শেয়ার ৩৬ শতাংশ, হুয়াওয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। হুয়াওয়ের মার্কেট শেয়ার হলো ৩৭ শতাংশ। যদিও বেশির ভাগ শিপমেন্ট হয়েছিল চীনে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় তাই কোনো প্রভাব পড়েনি।

স্যামসাং ফাইভজি স্মার্টফোন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে লন্ডন, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র : টেক এক্সপ্লোর