আবাহনী ও মাজিয়ার পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ

অনুশীলন করল একই মাঠে

সোহেল সারোয়ার

এখনো মাঠেই নামা হয়নি। তার আগেই আবাহনী এবং মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। একেবারে অনুশীলন মাঠেই এক জন আরেকজনকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস বলেছেন, ‘ওরা (মাজিয়া স্পোর্টস রিক্রিয়েশন) গুড, আমরা বেটার।’ আবাহনী কোচের এমন কথায় মালদ্বীপের মেসিডোনিয়ান কোচ মারজান সোকোভস্কির গা জ্বলে উঠেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নে পালটা জবাবে এ কোচ বলেছেন, ‘আসুন মাঠে প্রমাণ হবে। কে ভালো দল সেটা মাঠের বাইরে না বলে মাঠে খেলে প্রমাণ করতে হবে।’

মাঠে প্রমাণ করার জন্য আবাহনী এবং মাজিয়া স্পোর্টস রিক্রিয়েশন আগামীকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে। এএফসি কাপের এটি প্রিলিমিনারি রাউন্ডের খেলা। ঢাকায় খেলে ১২ ফেব্রুয়ারি আবাহনী মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ফিরতি লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবে এগিয়ে থাকা দলটি প্লেঅফ ম্যাচ খেলবে। প্লেঅফ ম্যাচেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে হবে। এটি উতরে যেতে পারলে গ্রুপ পর্বে ঢুকবে আবাহনী। পারবে কি পারবে না সেটি অনেক দূরে। তার আগে আগামীকালের ম্যাচটা পার হতে হবে।

আবাহনী এবং মাজিয়া স্পোর্টস কাল একই মাঠে অনুশীলন করল। বিকালে মাজিয়ার পর আবাহনী নামল অনুশীলনে। মাঠে গিয়েই ক্ষুব্ধ মাজিয়ার কোচ মারজান সোকোভস্কি। পুরানা পল্টন এলাকার হোটেল থেকে বেরিয়ে আবাহনী মাঠে পৌঁছাতে একঘণ্টা বেশি সময় লেগে গেল। দলের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্য বললেন এসএসসি পরীক্ষার কারণে একটু জ্যাম হয়েছিল।

শুরুতেই সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলেও এড়িয়ে গিয়ে বললেন কথা হবে অনুশীলনের পর। মাজিয়া স্পোর্টস তাদের দেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন। এখনো লিগের শেষ একটি খেলা রয়ে গেছে। খেলোয়াড়রা ক্লান্ত। কাল আবাহনী মাঠে দেখা গেল খেলোয়াড়রা ফুরফুরে মেজাজে। হালকা গা ঘামানো ছাড়া কোনো কাজ নেই। খেলোয়াড়দের পায়ে বুট নেই। কেডস পায়ে মাঠে দৌড়ঝাঁপ করলেন।

২০১৭ সালে এই মাজিয়ার বিপক্ষেই আবাহনী দুই বার হেরেছিল। সেটি নিয়ে কথা বলতে রাজি না মাজিয়ার কোচ মারজান সোকোভস্কি। বললেন, ‘এটি ভিন্ন কন্ডিশন। ভিন্ন খেলা। আগের খেলা নিয়ে কথা বলেও লাভ নেই। আগের দুই ম্যাচেও আমিই কোচ ছিলাম। তবে এখন নতুন মেজাজের ফুটবল হবে।’

৮ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড় রয়েছেন মাজিয়ার বর্তমান দলে। আছেন বিদেশি চার জন। মালদ্বীপের ঘরোয়া লিগে বিদেশি খেলতে পারে চার জন। কোচ বললেন তারা ফেডারেশন কাপ ফুটবলে আবাহনীর খেলা দেখেছেন। আবাহনীকে ভালোই মনে হয়েছে।

ঢাকায় আসার আগে আবাহনীর খোঁজখবর নিয়েছে মালদ্বীপের ক্লাব মাজিয়া। ঠিক তেমনি আবাহনীও মাজিয়ার খোঁজখবর নিয়ে রেখেছে বলে জানালেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু। কদিন আগেই তার বাবা মারা গেছেন। তার পরও বাবার মৃত্যু শোক বুকে নিয়েই অনুশীলন মাঠে গিয়েছিলেন রুপু, জানালেন মাজিয়া ভালো দল, কঠিন লড়াই হবে। তবে আমাদের জয়ের বিকল্প কিছু নেই। কারণ ঘরের মাঠের সুবিধাটা নিতে পারলে ফিরতি ম্যাচটায় মানসিকভাবেও এগিয়ে থাকা হবে।’

আবাহনী পর্তুগিজ কোচ লেমস এবারই প্রথম মালদ্বীপের মাজিয়া ক্লাবের মুখোমুখি হবেন। চাইছেন আগের হারের লজ্জা যেন মুছে দেওয়া যায়। তার মনের শক্তিটা হচ্ছে দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই এখন সুস্থ। এক দুই জন ইনজুরিতে থাকলেও স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন ফিরেছেন, পুরোদমে অনুশীলনও করছেন। বললেন, ‘নাইজেরিয়ান সানডে, হাইতির বেলফোর্টরা যদি সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে পারেন সেদিনের ম্যাচটা আমাদেরই হয়।’