১৬ আবাসন কোম্পানির জলাশয় ভরাটের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা

পূর্বাচল নতুন শহরের আশেপাশে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালিগঞ্জ থানাধীন ১৬টি হাউজিং কোম্পানি কর্তৃক জলাশয়, পুকুর, জলাভূমি ভরাট ও দখলের ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দুই মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

এছাড়া ওইসব কোম্পানি কর্তৃক জলাশয়, পুকুর ও জলাভূমি ভরাট ও দখল এবং কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন বন্ধে বিবাদিদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা        জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে জলাশয়, পুকুর ও জলাভূমি রক্ষায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ ও বন সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদিদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই ১৬ আবাসন কোম্পানি হচ্ছে প্ল্যাটিনাম পূর্বাচল সিটি, সিটি ক্লাউড, কানাডা সিটি, জমিদার সিটি, ড্রিমল্যান্ড, হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি, হোমটাউন পূর্বাচল সিটি, প্রিটি রিয়েল এস্টেট, মাসকট গ্রিন সিটি, পুষ্পিতা এমপিয়ার হাউজিং, রিমঝিম হাউজিং, নন্দন সিটি, বেস্টওয়ে সিটি, মালুম সিটি, মেরিন সিটি এবং সোপান সিটি।

এসব এলাকায় জলাশয়, পুকুর ও জলাভূমি রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রূপগঞ্জে এবং কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি আবাসন কোম্পানি অবৈধভাবে জলাশয়, জলাভূমি, নিচু ভূমি ও পুকুর ভরাট এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর।’ শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত তিন বছরের এরিয়েল ম্যাপ (গুগল অথবা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ম্যাপ) সংগ্রহ করে ঐ এলাকার জলাশয়, জলাভূমি, নিচু ভূমি ও পুকুর ইত্যাদি চিহ্নিত করে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।