ধুলোয় ঢেকেছে ঢাকা

রেজওয়ান ইসলাম সীমান্ত

দিন দিন দূষণের নগরীতে পরিণত হচ্ছে ঢাকা। বিগত কয়েক দিনের ধুলোয় যেন জনজীবন অতিষ্ঠ। কয়েকটি  আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনের জরিপে দূষণের নগরীর তালিকায় শীর্ষ কয়েকটি প্রধান শহরের মধ্যে ঢাকা একটি। এ শহরের বাইরে কিংবা ঘরে সবখানেই ধুলোর আস্তরণ। আপনি সকালে অফিস কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যখন পরিপাটি হয়ে রাস্তায় বেরোবেন, কাজ শেষে বাসায় গিয়ে দেখবেন ধুলোতেই যেন গোসল হয়ে গেছে পুরো শরীর। খুব সকালে উঠে আপনি ঢাকায় যে কুয়াশার আস্তরণ দেখতে পান তা আসলে কুয়াশা কম, ধুলোর আস্তরণ বেশি, এটাই বলছে গবেষণা রিপোর্ট। বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ আর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িই ধুলোর মূল উত্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। মুখে মাস্ক পরেও উত্তরণ মিলছে না এই ধুলো থেকে। যার ফলে নানাভাবেই হুমকির কবলে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। আক্রান্ত হতে হচ্ছে নানা ধরনের রোগে। বায়ুদূষণের ফলে বেড়ে গিয়েছে দূষণজনিত রোগ যাতে বিশেষ করে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

নগরে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ধুলো। এ ধুলোর আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে সিটি করপোরেশন কর্তৃক রাস্তায় পানি ছিটানো হলেও যেন খুব বেশি প্রতিকার পাচ্ছেন না নগরবাসী। এতে করে বাড়ছে রোগ, বাড়ছে জনগণের জীবন ব্যয়, চিকিত্সা ব্যয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৯১টি দেশের ১ হাজার ৬০০ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রথম ২৫ শহরের মধ্যে একটি। তা হলে আমরা খুব সহজেই অনুমান করতে পারছি কতটা হুমকির মুখে আছে আমাদের এ প্রাণের শহর ঢাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধুলোর কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। যার মধ্যে রয়েছে ডাস্ট এলার্জি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালির ক্ষত, হূদরোগ, এজম্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডাজনিত রোগ। এ ধুলোবাহিত রোগের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।

ধুলো থেকে আপনি খুব সহজে বাঁচতে পারবেন না, কারণ প্রতিনিয়ত আপনার রাস্তায় বেরোতে হবে আর ধুলোর সঙ্গে মিলিয়েই পথ চলতে হবে। তবে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ধুলো থেকে বাঁচতে হলে। এর পাশাপাশি নিজ আঙিনার চার পাশে পানি ছিটিয়ে ঝাড়ু দিতে পারেন এবং ঘরবাড়ি দিনে কমপক্ষে দুবার ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার রাখতে পারেন। এর ফলে ধুলো থেকে পুরোপুরি নিস্তার না পেলেও কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন তা তো বলাই যায়।

ধুলো কমাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের সচেতনতা। কারণ এই বায়ুদূষণের জন্য একমাত্র আমরাই দায়ী। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলবেই তবে নগরের অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। নির্মাণাধীন প্রকল্পের স্থানে বালু ও মাটি পরিবহনের সময় যথা সম্ভব ঢেকে স্থানান্তর করতে হবে। এর পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ উদ্যোগী হতে হবে নগরবাসীকে এ ধুলো থেকে বাঁচাতে। ধুলো ধুয়ে প্রাণ ফিরে পাক প্রাণের ঢাকা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়