গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে কেন নীতিমালা নয় :হাইকোর্ট

গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রকাশ রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা প্রণয়নে সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঐ নীতিমালা তৈরি বা নির্দেশনা প্রণয়ন করতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। ছয় সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৬ জানুয়ারি গর্ভবতী নারীর অনাগত সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রিটে বলা হয়, দেশের বেশির ভাগ মানুষই চান ছেলে সন্তান হোক। তারা মনে করেন, ছেলেরা বংশের ধারক। এমনকি অনেক মহিলাও মনে করে ছেলে সন্তান তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেবে। কিন্তু শিশু ভূমিষ্ঠের আগেই মেডিক্যাল পরীক্ষায় যদি লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ পায় তাহলে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর তা প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে। কারণ মা যদি হতাশায় ভোগে তবে বাচ্চার মস্তিকের বিকাশ ঠিকভাবে হয় না। চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভজাত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেটের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি। আবেদনের পক্ষে রিট আবেদনকারী ছাড়াও ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।

আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় শনাক্তকরণ এবং পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে নীতিমালা আছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও নীতিমালা রয়েছে। চিকিত্সকরা প্রয়োজন মনে করলে নারীর গর্ভের শিশু ছেলে না মেয়ে তখন জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ে কোনো নীতিমালা বা নির্দেশনা না থাকায় ঢালাওভাবে গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা হয়। এতে অনেক সময় মায়ের ওপর শারীরিক, মানসিক অত্যাচার ও নিপীড়নের কারণে গর্ভের শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত পহেলা ডিসেম্বর গর্ভবতী নারী ও তার অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিতে শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। কিন্তু পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাইকোর্টে এ রিট করা হয়।