এসএসসির ভুল প্রশ্নপত্র

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে শুরু হইয়াছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে এই পরীক্ষা হইল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পরবর্তী জীবনে উচ্চশিক্ষায় এই পরীক্ষার ফলাফল ভূমিকা রাখিয়া থাকে; তাই এই পরীক্ষা একটি ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষাটিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করিয়া থাকে। ফলে এই প্রত্যাশা অবাঞ্ছনীয় হইবে না যে কর্তৃপক্ষও পরীক্ষাটিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করিবে; এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা কাম্য নহে, যেমনটি ঘটিয়াছে এবারের পরীক্ষার প্রথম দিনেই। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সারাদেশে অনেকগুলো কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে ভুলের ঘটনা ঘটিয়াছে। মূলত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পুরাতন সিলেবাসে প্রণয়ন করা প্রশ্নপত্র দেওয়ায় এই বিপত্তি ঘটিয়াছে। একজন শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট হইতে খোঁজ নিয়া জানা গিয়াছে, নিয়মিত ও অনিয়মিত দুই ধরনের পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দুই রকম হইয়া থাকে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র হয় তাহাদের অর্থাত্ পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী। বিপত্তি ঘটে একই কক্ষে এই দুই শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা একই সঙ্গে গ্রহণ করায়। বিতরণে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র গুলাইয়া যাওয়ায় বিপত্তির সৃষ্টি হয়।

ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়াছে কুষ্টিয়া, বরিশাল, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, যশোর, টাঙ্গাইল, ফেনীতে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক-দুইটি কেন্দ্রে। একই সঙ্গে এতগুলো কেন্দ্রে ভুলের ঘটনা দুঃখজনক। ইহা নিঃসন্দেহে দায়িত্বে অবহেলারই নামান্তর। আমরা বা আমাদের শিক্ষকেরা কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হইলে এতগুলি কেন্দ্রে ভুল হইতে পারে তাহা অনুমেয়। কোথাও ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়া বাড়ি চলিয়া যাওয়ার পরে পুনরায় ডাকিয়া আনিয়া পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনাও ঘটিয়াছে। ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার কথা জানার পর ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক স্থানে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভাঙিয়া পড়িয়াছে। যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদত পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটিয়াছে। সার্বিকভাবে পরীক্ষা গ্রহণকারীদের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এই ধরনের ভুলের সৃষ্টি হইয়াছে। পরীক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষকদের হাতে থাকা প্রশ্নপত্রের কোন সেটে পরীক্ষা হইবে তাহা নির্দেশ অনুসারে বিতরণ করিবার কথা। বর্তমানে আমাদের বসবাস ডিজিটাল যুগে, এখন পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব। অথচ এই সময়ে আসিয়া এ ধরনের ভুল দেখিতে হইতেছে। পাশাপাশি বলিতে হয়, বছরে বছরে সিলাবাসে পরিবর্তনও শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ফল বহিয়া আনে না। আর ইহাও নিশ্চিত করিতে হইবে, যেন ভিন্ন ভিন্ন সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়; তাহা না হইলে এই ধরনের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকিয়া যাইবে।

ঘটিয়া যাওয়া এই ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃসন্দেহে উদ্বেগের সৃষ্টি হইয়াছে; তাহা যেন আর না বাড়ে। আমাদের আশা থাকিবে, ইতোমধ্যে যে ভ্রান্তি হইয়া গিয়াছে, তাহার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পরীক্ষার্থীরা যেন এই ভুলের কারণে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এসএসসির মতো একটি স্পর্শকাতর পরীক্ষা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে।