বীজবিহীন পেয়ারা চাষে সাফল্য

সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস

দেশে বীজবিহীন পেয়ারা চাষে সাফল্য এসেছে। বীজ না থাকায় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সের লোকজন এটি খেতে পারবে। তাছাড়া মোটামুটি সারা বছরই এর ফলন পাওয়া যাবে। দীর্ঘ দিন গবেষণার পর ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে জাতটি অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ফলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গত কয়েক দিন আগে সাফল্যের সঙ্গে পেয়ারার ফলন পাওয়া যায়। সারা বছর ফলন তোলা হলেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফলন তোলার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে গবেষণায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান। বীজবিহীন এই পেয়ারা বারি পেয়ারা-৪ নামে পরিচিত। বীজবিহীন হওয়ায় এর বিস্তার অঙ্গজ পদ্ধতিতেই ঘটানো হয়। অঙ্গজ পদ্ধতিতে বংশ বিস্তার করলে সে গাছের পেয়ারা               মাতৃ গাছের পেয়ারা হতে পার্থক্য হয় না। অঙ্গজ পদ্ধতির মধ্যে গুটি কলমই বহুল প্রচলিত। তবে বিদ্যুত্ কালচারের মাধ্যমেও বংশ বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা যায়।

এই পেয়ারার গাছ খর্বাকৃতির, মধ্যম ছড়ানো ও ঝোঁপালো, পরিপক্ব ফলের রং হলুদাভ সবুজ। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ২৮৪ গ্রাম। ফলের শাঁস সাদা, কচকচে, সুস্বাদু ও দীর্ঘ সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন। পেয়ারা উঞ্চ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফল। প্রায় সব রকম মাটিতে এই পেয়ারার চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি থেকে ভারী এঁটেল মাটি যেখানে পানি নিষ্কাশনের বিশেষ সুবিধা আছে সেখানে এ পেয়ারা ভালো জন্মে। ৪.৫-৮.২ অম্ল ক্ষারত্বের মাটিতে পেয়ারা সহজে জন্মে।