ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতির দায়ে বহিষ্কার হয় ৬৩ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সিন্ডিকেট সম্প্রতি এসব শিক্ষার্থী বহিষ্কার করে। উপাচার্যের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো কারণ ছাড়াই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের এ তালিকা এক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ করেননি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। পরবর্তীকালে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও অনুষদগুলোতে এসব কপি পাঠানো হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় প্রকাশিত হয় ৬৩ জনের নামের তালিকা।
এর আগে গত শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘জালিয়াতদের তালিকা প্রকাশে ভিসি রাজি, বাধা প্রক্টর’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই নাম প্রকাশের দাবি ওঠে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। সর্বশেষ গত সোমবার নাম প্রকাশের জন্য প্রক্টর বরাবর আবেদন জানান ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। এর পরপরই সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনও একই দাবি জানান। এমন সব ঘটনার পরও প্রক্টর এ তালিকা প্রকাশ করেননি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত ওই তালিকায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চার শিক্ষার্থী হলেন মো. আবদুল ওয়াহিদ, মো. ইছাহাক আলী, আনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, মো. মাসুদ রানা। সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাত শিক্ষার্থী হলেন সালমান এফ রহমান হূদয়, ইসরাত জাহান ছন্দা, মো. রাকিবুল হাসান, সৌভিক সরকার, মো. মেহেদী হাসান, মো. হাসিবুর রশিদ ও মো. মারুফ হাসান খান।
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সাফায়াতে নূর সাইয়ারা নোশিন। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের জি এম রাফসান কবির। পরিসংখ্যান বিভাগের মো. আবু জুনায়েদ সাকিব। তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মোস্তাফিজ-উর-রহমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচ জন হলেন শরমিলা আক্তার আশা, মো. লাভলুর রহমান লাভলু, জাকিয়া সুলতানা, জেরিন হোসাইন ও আবির হাসান হূদয়। অর্থনীতি বিভাগের তিন শিক্ষার্থী হলেন সামিয়া সুলতানা, সিনথিয়া আহমেদ ও জান্নাত সুলতানা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চার শিক্ষার্থী হলেন মো. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, আমরিন আলম জুটি, নওশীন আফরিন মিথিলা ও আল আমিন পৃথক।
টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মেহেজাবিন অনন্যা ও মো. শাদমান শাহ। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. আফসানা নওরিন ঋতু, ইতিহাস বিভাগের ফাতেমা আক্তার তামান্না। বাংলা বিভাগের দুজন হলেন এম ফাইজার নাঈম, জিয়াউল ইসলাম। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তাজুল ইসলাম সম্রাট, নুরুল্লাহ ও সাদিয়া সুলতানা। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. মাসুদ রানা, ফাতেমা-তুজ জোহরা ও মো. শাবিরুল ইসলাম।
ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দুই জন হলেন ইফতেখারুল আলম জিসান, নাফিসা তাসনিম বিন্তী। বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের দুই জন হলেন শাশ্বত কুমার ঘোষ, সাদিয়া সিগমা। ফিন্যান্স বিভাগের দুই জন হলেন শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, মো. আশেক মাহমুদ জয়। ফার্মেসি বিভাগের তিন জন হলেন মো. মোহায়মেনুল ইসলাম, মো. সাইদুর রহমান ও আব্দুর রহমান। আইন বিভাগের তিন জন হলেন সুবহা লিয়ানা তালুকদার, আজলান শাহ ফাহাদ ও সালমান হাবিব আকাশ। মনোবিজ্ঞান বিভাগের চার জন বেলাল হোসেন, মোর্শেদা আক্তার, তানজিনা সুলতানা ইভা ও মশিউর রহমান আকাশ। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের মো. মোহাইমিনুল রায়হান ফারুক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আবুল কালাম আজাদ, সংস্কৃত বিভাগের শিহাব হাসান খান, যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের মো. আবু মাসুম, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শাহাত্ আল ফেরদৌস ফাহিম, মার্কেটিং বিভাগের মাহবুব আলম সিদ্দিকী সম্রাট।