স্যার ফজলে হাসান আবেদ তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে শুধু ব্র্যাকের মতো একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলেননি বরং বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নই তার জীবনের ব্রত ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাহান কবিতার মতোই তিনি ছুটে গেছেন ভুবনের ঘাটে ঘাটে, এক হাটে বোঝা নিয়ে অন্য হাটে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে এই স্মরণসভার আয়োজন করে ব্র্যাক। স্মরণসভা শেষে ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক জানান, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বসেরা এনজিওর স্বীকৃতি পেয়েছে ব্র্যাক।
স্মরণসভার শুরুটা হয় সাবেক মন্ত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপির গলায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শাহজাহান কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নোবেলবিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের শিক্ষক ড. মার্থা চেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের পাঠানো বিবৃতি পড়ে শোনান জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো। স্যার ফজলের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তার মেয়ে তামারা আবেদ ও ছেলে শামেরান আবেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পেনি মর্টন, ডিএফআইডির বাংলাদেশ প্রধান জুডিথ হার্বার্টসন, বিশিষ্ট আইনবিদ ড. কামাল হোসেন, বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান, অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, ড. আইনুন নিশাত, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশি কবির, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ প্রমুখ।
ড. ইউনূস বলেন, বিশ্ব জুড়ে এনজিও সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেই পালটে দিয়েছিল আবেদ। তাঁর হাত ধরেই এনজিও এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আবেদের স্বপ্ন ও চিন্তাভাবনাকে ধরার চেষ্টা করতে হবে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা একটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার গড়ে তুলতে যাচ্ছি, যাতে বছরে ১ হাজার ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব হবে। সেই সেন্টারটির নাম আমরা স্যার ফজলে হাসান আবেদের নামে রাখতে চাই।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করা এনজিওগুলোর একটি মোর্চা গঠনকল্পে স্যার ফজলে গণসাক্ষরতা অভিযান’ গঠন করেছিলেন। আজ ২৩২টি এনজিও এর সদস্য। আমরা তার চিন্তা-চেতনা, আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে স্যার ফজলেকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তার প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান অদিতি মোহসিন এবং শামা রহমান। সবশেষে আগতদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্যার ফজলের স্বপ্নকে সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করেন ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক।