বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে পদক্ষেপ

কোম্পানি বন্ধ হলেও শেয়ারের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন বিদেশিরা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সংশোধন ও সংযোজন হচ্ছে আইনি কাঠামোতেও। এতদিন কোনো কারণে কোম্পানি বন্ধ হলে বিদেশিরা তাদের শেয়ারের অর্থ ফেরত নিতে পারতেন না। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। এতে তারা বাংলাদেশে আসতে অনীহা দেখান। বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে বন্ধ কোম্পানির শেয়ার ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করে অর্থ নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারবেন বিদেশিরা। গতকাল এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে মুনাফা ও রয়্যালিটির অর্থ সহজে নিতে পারেন। কিন্তু লোকসান বা স্থানীয় অংশীদারির সঙ্গে সম্পর্ক বিনষ্টের কারণে কোনো কোম্পানি বন্ধ হলে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এটি বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের বাধা হয়ে রয়েছে।

দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা পরিবেশ কেমন তার ওপর প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। সেই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৯০টি মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। অর্থাত্ ব্যবসার পরিবেশ একেবারেই নাজুক অবস্থানে। বাংলাদেশ সরকার সহজে ব্যবসা করার এই সূচকে উন্নতি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ৯৯টির দেশের মধ্যে থাকতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আইনগত সংস্কার করছে।

বিদেশিদের আকৃষ্ট করতেই গতকাল নতুন নীতি জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঐ সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোম্পানি বন্ধ হলে নিজস্ব মালিকানাধীন শেয়ার বিক্রি করে তা ফেরত নিয়ে যেতে পারবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। নিয়মসংক্রান্ত কারণে আদালতের আদেশে এবং স্বেচ্ছায় কোম্পানি বন্ধ হলে অর্থ নেওয়া যাবে। আদালত কোনো কোম্পানি বন্ধের নির্দেশ দিলে সেই আদেশের কপিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে শেয়ারের সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ, দায়দেনা, করকর্তন এবং অবসায়কের সনদসহ যাবতীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। স্বেচ্ছায় বন্ধ করতে চাইলে সবধরনের কাগজপত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাখিল করতে হবে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অবশ্যই সব ধরনের কাগজপত্র ও নিয়মনীতি পরিপালনের যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ারের অর্থ ফেরত নিতে হলে সম্ভাব্য দলিলাদির তালিকা দেওয়া হয়েছে ঐ সার্কুলারে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানি গঠনের সার্টিফিকেট, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, রিটার্ন অব অ্যালটমেন্ট, ইনস্টু্রমেন্ট অব ট্রান্সফার শেয়ার, অডিটেড ব্যালান্সশিট, অবসায়কের সনদ, সিআইবি রিপোর্ট, কর সনদপত্র প্রভৃতি।